আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ন
ক্যারিবীয় সফরের শেষ ধাপে অ্যান্টিগুয়ায় কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে (চোগম) ঐতিহাসিক অ্যাটলান্টিক দাস ব্যবসার স্থায়ী বেদনার বিষয়ে ‘অসংকোচ সততা’ এবং ‘আন্তরিক দুঃখ’ প্রকাশ করে বক্তব্য দেবেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস। রাজার বাসভবন বাকিংহাম প্যালেস এই কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার কমনওয়েলথ নেতাদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে রাজা চার্লস দাসপ্রথার বিষয়ে কথা বলবেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাসপ্রথায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা দেশটির আগের সরকারি অবস্থানের একটি পরিবর্তন।
প্যালেস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বার্নহামের করা এই মন্তব্যের বিষয়টি বাকিংহাম প্যালেসকে আগেই জানানো হয়েছিল। তবে এর কারণে রাজা চার্লস তার পূর্বনির্ধারিত ভাষণে কোনো পরিবর্তন করেননি। ব্রিটিশ সরকার ঐতিহ্যগতভাবেই দাসপ্রথার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা কিংবা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
অন্যদিকে, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক ক্ষমা চাওয়া নিয়ে এই অব্যাহত আলোচনাকে বর্তমান সমস্যা সমাধানের পথ থেকে একটি ‘বিক্ষোভ’ বা বিচ্যুতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দাস ব্যবসা শত শত বছর আগে ঘটেছে এবং কমনওয়েলথের উচিত পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে নজর দেওয়া।
বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সফরকালে রাজা অতীতের অন্যতম লজ্জাজনক দিকগুলো মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না। সেখানে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর মধ্যে হতে যাওয়া আলোচনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি বক্তব্য প্রদান করবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে প্যালেস স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাজ্যের সরকারি নীতির বিষয়ে রাজার কথা বলা সমীচীন নয়।
এই ক্যারিবীয় সফর রাজা চার্লসকে এ অঞ্চলের ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের স্পর্শকাতর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। সফরের প্রথম পর্বে বাহামাসে গিয়ে তিনি অতীতের নানা দুঃখ-কষ্টের কথা স্মরণ করেন। পরে গায়ানায় ১৮২৩ সালের দাস বিদ্রোহের স্থান পরিদর্শন করেন, যেখানে শত শত ক্রীতদাসকে হত্যা করা হয়েছিল।
রাজপরিবারের সহযোগীরা জোর দিয়ে বলেছেন যে ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারের বিষয়, রাজপ্রাসাদের নয়। এক রাজকীয় সহকারী জানান, জটিল কূটনৈতিক বিষয় ও সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে রাজা অভ্যস্ত এবং তিনি কমনওয়েলথ ও যুক্তরাজ্যের স্বার্থে নিজের ভূমিকা পালন করছেন।
অ্যান্টিগুয়ায় রাজার সাথে রানী ক্যামিলাও রয়েছেন। সেখানে তারা দ্বীপটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি রবিবার সকালে একটি গীর্জার প্রার্থনায় অংশ নেন। নয় দিনের এই দীর্ঘ ক্যারিবীয় সফরে ৭৭ বছর বয়সী রাজা প্রায় ৩৬টি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, যদিও ২০২৪ সালের শুরু থেকে তাঁর ক্যান্সারের চিকিৎসা এখনো চলমান রয়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।