
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা-এ স্ত্রীকে হত্যা করে টয়লেটের ট্যাংকের ভেতরে লুকানোর চেষ্টা করার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. মিজানুর রহমান ভিজু (৪৮)। তিনি উপজেলার মনাকষা ইউনিয়ন-এর রানীনগর হঠাৎপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মুনতাজ আলী। নিহত নারী মোছা. নাসিমা বেগম (৪০), তিনি দুর্লভপুর ইউনিয়ন-এর মৃত আব্দুস সালামের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান ভিজু প্রায়ই তার স্ত্রী নাসিমা বেগমকে মারধর করতেন। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সন্তানরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত। ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজের কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকেন। ফলে বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বসবাস করতেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে বাড়িতে কাউকে দেখতে না পেয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের শিকল খুলে মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পান। রক্তের দাগ ও টেনে নেওয়ার চিহ্ন অনুসরণ করে টয়লেটের কাছে পৌঁছালে সন্দেহ আরও বাড়ে। এরপর টয়লেটের ঢাকনা খুলে ভেতরে নাসিমা বেগমের মরদেহ দেখতে পান তারা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত শিবগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ-কে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর সহায়তায় পাশের একটি গ্রাম থেকে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ভিজুকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে হুমায়ন কবির জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের ধারণা, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে মিজানুর রহমান ভিজু তার স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ টয়লেটের ট্যাংকের ভেতরে ফেলে রাখেন।
