খুমেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ধোঁয়ায় আতঙ্ক, জানালা দিয়ে লাফ চিকিৎসক-নার্সদের

খুমেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ধোঁয়ায় আতঙ্ক, জানালা দিয়ে লাফ চিকিৎসক-নার্সদের
খুমেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ধোঁয়ায় আতঙ্ক, জানালা দিয়ে লাফ চিকিৎসক-নার্সদের
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টার দিকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগলে মুহূর্তেই কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো ফ্লোর। এতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রেজাউল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় ওটি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। দ্রুত মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইমারজেন্সি ওটির দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. দিলীপ কুমার বলেন, সকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে পোস্ট অপারেটিভ রুম কিংবা স্টোর রুমে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে এসির আউটডোর ইউনিট ও অক্সিজেন লাইনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অক্সিজেন আউটডোরে আগুন লাগার কারণে বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে দুই নার্স ও একজন চিকিৎসক জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। তখন ওটির ১৫টি বেডেই রোগী ছিল। আগুন লাগার পরপরই রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

রোগী ও স্বজনরা জানান, আগুন লাগার সময় বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে গেলে সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে তাদের রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন আলী বলেন, শর্টসার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

অন্যদিকে, হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী আনসার কমান্ডার এসিপি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুই নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, আগুনের কারণে হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ফলে আপাতত সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ