চকলেটের প্রলোভনে শিশুকে নির্জন চরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, সরাইলে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৯ বছরের এক শিশুকে খাবার ও চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন চরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা ও তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
36453
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

তাসলিমা সারমিন  স্টাফ রিপোর্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের তেলিকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামে ৯ বছরের এক শিশুকে খাবার ও চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে নির্জন চরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে দুপুরে তেলিকান্দি এলাকার বাসিন্দা শহিদ পাঠান (৩৫) খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে বাড়ির সামনে থেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে তাকে নৌকাযোগে নদীর অপর পাড়ে ডুগাবিল চরের একটি নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পরদিন ২৪ মে ভুক্তভোগীর স্বজন বিলকিছ আক্তার বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ফরেনসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি আদালতে শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, তদন্ত শেষে মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি সাহেব সরদার বলেন, একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ