চাকরির ফাঁদে যুদ্ধের মরণযাত্রা: ইউক্রেনে লড়াইয়ে বাধ্য করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের

চাকরির ফাঁদে যুদ্ধের মরণযাত্রা: ইউক্রেনে লড়াইয়ে বাধ্য করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের
চাকরির ফাঁদে যুদ্ধের মরণযাত্রা: ইউক্রেনে লড়াইয়ে বাধ্য করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

চাকরির আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে রাশিয়া—এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক সামরিক চুক্তিতে সই করানো হচ্ছে এবং সম্মুখসারির ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের।

ভুক্তভোগীদের একজন মাকসুদুর রহমান জানান, এক শ্রম দালালের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজের আশ্বাস পেয়ে তিনি রাশিয়ায় যান। কিন্তু মস্কো পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়, যা পরে সামরিক চুক্তি বলে জানা যায়।

এপি তিনজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেছে, যাঁরা রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন। তাঁরা জানান, চুক্তির পর তাঁদের একটি সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে নেওয়া হয়, যেখানে ড্রোন যুদ্ধকৌশল, আহত সেনা উদ্ধার এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কারাদণ্ড ও নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হতো।

মাকসুদুর রহমান বলেন, প্রতিবাদ করলে এক রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে তাঁকে বলেন, ‘তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনেছি।’ তিনি আরও জানান, তাঁদের দিয়ে রুশ বাহিনীর আগে এগিয়ে যাওয়া, রসদ বহন, আহত ও নিহত সেনাদের উদ্ধারসহ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হতো।

এপি আরও জানায়, অন্তত তিনজন নিখোঁজ বাংলাদেশির পরিবার জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁদের স্বজনেরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। এপি পর্যালোচনা করা নথিপত্র—ভ্রমণ কাগজপত্র, সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশি প্রতিবেদন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাওয়া আঘাতের ছবি—সবই ইউক্রেন যুদ্ধে তাঁদের অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয়।

কতজন বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা নিশ্চিত নয়। তবে ভুক্তভোগীরা জানান, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে তাঁরা শত শত বাংলাদেশিকে দেখেছেন। এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকার—কেউই এপির প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একই কৌশলে ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। চাকরির আশ্বাসে অভিবাসী শ্রমিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে শোষণের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ