
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবেশদ্বার সরাইল বিশ্বরোড মোড় থেকে সরাইল উপজেলা সদর ও নাসিরনগর উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র আঞ্চলিক সড়কটির কুট্টাপাড়া ব্রিজ এলাকাটি বর্তমানে এক বিভীষিকাময় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচলের একমাত্র এই সড়কটির কুট্টাপাড়া ব্রিজে ওঠার এবং নামার মুখে তৈরি হয়েছে বিশাল ও বিপজ্জনক গর্ত। পিচ ও ইট-সুরকি উঠে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া এই মরণফাঁদ দিন দিন আরও গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অত্যন্ত ব্যস্ততম ও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন বেহাল দশা ও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনার স্পষ্ট আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান সংস্কার উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের দানা বাঁধছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন বিশ্বরোড মোড় থেকে সরাইল এবং নাসিরনগর উপজেলায় প্রবেশের প্রধান রুট এটি। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার, সরাইল ও নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন।
অথচ প্রশাসনের প্রায় সবার চোখের সামনেই ব্রিজের দুই মুখের এই বিপজ্জনক গর্তগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিনিয়ত এই ভাঙাচোরা অংশ দিয়ে পার হতে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও মালবাহী ট্রাকগুলো মারাত্মক হেলেদুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। প্রায়শই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানবাহন বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার বিষয় হলো, এই সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা পায়ে হেঁটে কিংবা হালকা যানবাহনে চড়ে যাতায়াত করে থাকে। গর্তগুলোর তীব্রতা এতটাই বেশি যে অসাবধানতাবশত যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো যাত্রীবাহী যান উল্টে গিয়ে প্রাণহানির মতো বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জনপদে ব্রিজের মুখে মরণফাঁদের মতো গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে, যা প্রতিদিন হাজারো মানুষের নজরে আসছে।
তবু কেন এটি সংস্কার হচ্ছে না? এই উদাসীনতার দায় আসলে কার? সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত সড়কের এই বিপজ্জনক অবস্থা দেখার পর কি তা দ্রুত মেরামত করার ন্যূনতম তাগিদও প্রশাসনের নেই?”উদ্বেগজনক এই অব্যবস্থাপনা ও টেকসই সংস্কারের অভাব দূর করতে সরাইল ও নাসিরনগরের সাধারণ সচেতন মহল অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সড়কটিকে নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করতে এবং সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সরাইল উপজেলা এলজিইডি (LGED) নির্বাহী প্রকৌশলীর জরুরি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
