— বিজ্ঞাপন —

জার্মানিতে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদ সহিংস রূপ নিল, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট

জার্মানির বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ রাত গড়াতেই সহিংস হয়ে উঠেছে। ফ্রাঙ্কফুর্টসহ বেশ কয়েকটি শহরে দোকানপাট লুটপাট এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
জার্মানিতে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদ সহিংস রূপ নিল, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ন

জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টসহ দেশটির একাধিক শহরে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার দিনের বেলায় শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে রাত নামতেই সংঘর্ষ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ফ্রাঙ্কফুর্ট ছাড়া বেলিন, কোলন ও হামবুর্গেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজি, পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে।

বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত খরচ, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং সামরিক সেবার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল যুব সংগঠন ‘জেন জি রেজেল্ট’ (যার অর্থ ‘জেন জি দায়িত্ব নিচ্ছে’)। ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব শহরে প্রায় ১৮,০০০ আন্দোলনকারী অংশ নিয়েছিলেন, যা আয়োজকদের অনুমানের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তবে জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, দেশের বিভিন্ন শহরে সব মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন।

‘জেন জি রেজেল্ট’-এর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ জানান, যুদ্ধ ও বাধ্যবাধকতার বদলে শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতেই এই বিক্ষোভের আয়োজন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নত সহযোগিতাই আমাদের মূল দাবি। আমরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে এবং জাতীয় বোঝার ন্যায্য বণ্টনের পক্ষে।

দিনের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাতে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কেন্দ্রস্থলে চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে জানায়, শহরের একাধিক দোকানের কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ জানায়, একটি অস্ত্রের দোকানের কাচ ভেঙে দুটি অস্ত্র চুরি করা হয়, তবে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফ্রাঙ্কফুর্টের মূল কেনাকাটার সড়কের একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক জানিয়েছেন, ফ্রাঙ্কফুর্টের এই বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন চিহ্নিত চরম বামপন্থি অনুপ্রবেশ করেছিল। যেভাবে এই আন্দোলন শেষ হলো তা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফ্রান্সের সহিংসতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যেভাবে লুটপাট, ঘরবাড়ি ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে, সেই চিত্র আমরা মনে রেখেছি। ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই মডেল হিসেবে নেওয়া যাবে না।

একই দিনে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতের মতো সরকারি সেবার অবক্ষয়ের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ রাজপথে নামেন। প্যারিস, তুলুজ, লিওঁ এবং মার্সেইতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, মোলোটভ ককটেলের আঘাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

ইতালির রোম ও তুরিনেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। পর্তুগালে আবাসন সংকট এবং ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিলের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করার পর পুলিশ তাদের তাবু তুলে দেয়। মূলত তরুণ প্রজন্ম ইউরোপের ফ্রান্স, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, গ্রিস, সার্বিয়া ও আলবেনিয়াজুড়ে রাজপথে নেমেছে। যদিও দেশভেদে সুনির্দিষ্ট দাবি আলাদা, তবে অধিকাংশ বিক্ষোভেই আবাসন, শিক্ষার মান এবং সরকারি সেবা হ্রাসের বিষয়গুলো মুখ্য হয়ে উঠেছে।

সূত্র: BBC World (English)
পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗