
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অন্তত আগামী জুন মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কমনওয়েলথ ব্যাংক অফ অস্ট্রেলিয়ার-এর শীর্ষ ভূ-রাজনৈতিক কৌশলবিদ ম্যাডিসন কার্টরাইট। তার মতে, এই যুদ্ধের জটিলতা এতটাই গভীর যে একতরফাভাবে কোনো পক্ষের সরে দাঁড়ানোয় দ্রুত সমাধান আসবে না।
কার্টরাইট বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই একক সিদ্ধান্তে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই সংঘাত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারবেন না। অতীতে তার বাণিজ্য নীতিতে ‘টাকো ট্রেড’ বা শেষ মুহূর্তে পিছু হটার কৌশল দেখা গেলেও সামরিক সংঘাতে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ একটি যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে একাধিক আঞ্চলিক শক্তির স্বার্থ জড়িত থাকে।
তিনি আরও সতর্ক করেন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইতোমধ্যে সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসরায়েল ও ইরান—উভয় পক্ষকে নিয়ে কার্যকর চুক্তি অপরিহার্য। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া কোনো স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারবে না।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্য এতটাই গভীর যে আলোচনার পথ জটিল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যেও কৌশলগত মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যদি লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই সরে দাঁড়ায়, তবে ইসরায়েল এককভাবেই সংঘাত চালিয়ে যেতে পারে।
এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সার্বিকভাবে এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নেই; বরং তা বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জুন পর্যন্ত এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে বিশ্ব সম্প্রদায় কূটনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে।
