ট্রমা জেনারেল হাসপাতালের শিশুর বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট: সিভিল সার্জনে অভিযোগ

লেখক: লিটন হোসাইন জিহাদ
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রীনভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতাল এর চিকিৎসক ডা. তৌকিতুল আলম সরকার (চয়ন) শিশুর চিকিৎসায় অবহেলা ও ট্রমা জেনারেল হাসপাতালের বিভ্রান্তিকর রির্পোটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শহরের ঘাটুরা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম হাজারী। তিনি বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জনের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে আশরাফুল আলম হাজারী উল্লেখ করেন, তিনি গত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে তার দুই বছর বয়সী কন্যা সন্তান আরিশাকে চিকিৎসার জন্য গ্রীনভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মোল্লা ভবন, কুমারশীল মোড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-তে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ডা. তৌকিতুল আলম সরকার (চয়ন) শিশুটির চিকিৎসা করেন এবং তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার পরামর্শ দেন।ট্রমা হাসপাতালের রির্পোট

ডা. চয়নের পরামর্শ অনুযায়ী আশরাফুল আলম তার কন্যাকে ট্রমা জেনারেল হাসপাতাল, আজিজ গার্ডেন, কুমারশীল মোড়-এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার ফাইরোজ মাইশা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রিপোর্ট প্রদান করেন। উক্ত রিপোর্ট ডা. চয়নের কাছে দেখালে তিনি জানান যে, শিশুটির কিডনিতে পানি রয়েছে এবং তিনি ৬ প্রকার ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন।

পরে অভিযোগকারী বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-তে দ্বিতীয়বার আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। সেখানে চিকিৎসক ডা. তোফায়েল হক জানান যে, শিশুটির কোনো শারীরিক সমস্যা নেই।

ক্রিসেট হাসপাতালের রির্পোট

ক্রিসেট হাসপাতালের রির্পোট

এ ঘটনায় আশরাফুল আলম হাজারী বলেন,

“একই দিনে দুটি ভিন্ন স্থানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর পর দুই বিপরীত রিপোর্ট পেয়েছি। প্রথম রিপোর্টের ভিত্তিতে আমার শিশুকে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমি একজন অভিভাবক হিসেবে গভীর উদ্বেগে আছি।”

আশরাফুল আলম হাজারী এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসা কাগজপত্র ও রিপোর্টের ফটোকপি সংযুক্ত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো: নোমান মিয়া পথিকটিভিকে জানান, অভিযোগ আমরা পেয়েছি এ বিষয়ে ৩ সদস্যদের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধিদের  বিচারের আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে ট্রমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।