আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ন
পাকিস্তানের করাচির অন্যতম শীর্ষ সরকারি চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ডাও ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইন্সেস’-এ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার এক বড় তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৭ জন কর্মচারীর শিক্ষাগত সনদ বা ডিগ্রি যাচাই-বাছাইয়ের পর ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।
এই ঘটনাটি সামনে আসার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে দেশটির পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)। এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এই ২৭ কর্মচারীকে এ পর্যন্ত প্রদান করা সমস্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা অবিলম্বে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডাও ইউনিভার্সিটির মোট ৫ হাজার ৩৫০ জন কর্মচারীর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৯৪৫ জনের সনদ যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যেই ২৭ জনের শিক্ষাগত সনদ ভুয়া বলে ধরা পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়টির বাকি ৩ হাজার ৪০০ কর্মচারীর শিক্ষাগত সনদের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ এখনও বকেয়া রয়েছে। ফলে সনদ যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে জালিয়াতির আরও ঘটনা সামনে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জালিয়াতির এই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসার পর পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি পুরো সিন্ধ প্রদেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের ডিগ্রি যাচাই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে।
নকল বা ভুয়া সনদের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি পাওয়ার এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় কেন সঠিকভাবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়নি, তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
একই সঙ্গে জনগণের করের টাকায় পরিশোধ করা কোটি কোটি রুপির বেতন কীভাবে এবং কত দ্রুত আদায় করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।