ডিমেনশিয়া ও প্রবীণদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে চলচ্চিত্র ‘কুইন অব সি’

আমেরিকান স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ল্যান্স হ্যামারের পরিচালনায় দীর্ঘ বিরতির পর প্রদর্শিত হলো ডিমেনশিয়া আক্রান্ত রোগীর জীবন ও জটিল পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নির্মিত ছবি 'কুইন অব সি'।
ডিমেনশিয়া ও প্রবীণদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে চলচ্চিত্র 'কুইন অব সি'
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

বিনোদন ডেস্ক: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ন

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে আমেরিকান স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ল্যান্স হ্যামারের নতুন ছবি ‘কুইন অব সি’। দীর্ঘ ২০০৮ সালের সানড্যান্স বিজয়ী চলচ্চিত্র ‘ব্যালাস্ট’-এর পর এটিই তার বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন। ডিমেনশিয়া, প্রবীণ দম্পতির সখ্য, যৌনতা এবং তাদের দেখাশোনার দায়িত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই ছবির গল্প। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি ১৭ বা ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

চলচ্চিত্রটির কাহিনি গড়ে উঠেছে লন্ডনের এক শীতকালীন ধূসর আবহাওয়ায়। এতে জুলিয়েট বিনোচে অভিনয় করেছেন আমান্ডা নামে একজন সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া শিক্ষাবিদের চরিত্রে। তিনি তার কিশোরী মেয়ে সারাকে (ফ্লোরেন্স হান্ট) নিয়ে লন্ডনে আসেন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বৃদ্ধা মা লেসলি (অ্যানা কাল্ডার-মার্শাল) এবং সৎ বাবা মার্টিনের (টম কোর্টেনি) কাছাকাছি থাকার জন্য।

গল্পের মোড় ঘোরে যখন আমান্ডা একদিন সকালে তার মা লেসলি ও সৎ বাবা মার্টিনকে এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তে আবিষ্কার করেন, যেখানে তার মায়ের মুখে কোনো সুস্পষ্ট অনুভূতির ছাপ ছিল না। এ ঘটনা দেখে ক্ষুব্ধ আমান্ডা মার্টিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। জিপি বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত লেসলি কোনো কিছুতে শারীরিক সম্মতি দেয়ার অবস্থায় ছিলেন না। তবে মার্টিন ইন্টারনেট গবেষণা থেকে দাবি করেন, এটি ডিমেনশিয়া রোগীর জন্য সান্ত্বনাদায়ক এবং একজন পরিচর্যাকারীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তেজিত হয়ে আমান্ডা পুলিশে খবর দিলে বিষয়টি আইনি জটিলতায় রূপ নেয়। মার্টিনকে লেসলির কাছ থেকে দূরে রাখা হয়, যার ফলে লেসলি চরম মানসিক বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন। পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ বন্ধ করার একমাত্র উপায় হিসেবে লেসলিকে কেয়ার হোমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে মার্টিন এটিকে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে মনে করেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান।

চলচ্চিত্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য হলো সমাজকর্মী, আমান্ডা, মার্টিন এবং লেসলির মধ্যে চারমুখী একটি আলোচনা। সেখানে মার্টিন তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার আবেগঘন প্রকাশ ঘটান, যা লেসলিও স্পর্শকাতরভাবে ফিরিয়ে দেন। তবে ডিমেনশিয়ার কারণে সেই ভালোবাসার প্রকাশের কতটা মূল্য রয়েছে, তা নিয়ে জটিল প্রশ্ন থেকে যায়।

চলচ্চিত্রটিতে প্রবীণদের যৌনতা, সম্মতি, ডিমেনশিয়া রোগীর যত্ন এবং সন্তানদের দায়িত্ববোধের মধ্যে থাকা টানাপোড়েনকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও হৃদয়বিদারকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে টম কোর্টেনি, অ্যানা কাল্ডার-মার্শাল এবং জুলিয়েট বিনোচের অভিনয় দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Health
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ