অনাহারে থাকা এক বৃদ্ধ দম্পতির আকুতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ওই দম্পতির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাদেরকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন এবং অসুস্থ বৃদ্ধার সব চিকিৎসার খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের ৮৬ বছর বয়সী সাজু শেখ ও ৮০ বছর বয়সী নুরজাহানের প্রায় ৭০ বছর আগে বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতি শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর সাজু শেখ তার স্ত্রীকে কোলে নিয়ে কান্নাবিজেড়িত কণ্ঠে খাবার দাবি করার এক হৃদয়বিদারক ভিডিও এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফেসবুকে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
ভিডিওটি নজরে আসার পর হাসপাতালে ভর্তি এই দম্পতিকে দেখতে যান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। তিনি অসুস্থ বৃদ্ধাকে একটি হুইল চেয়ার উপহার দেন এবং তাদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণসহ খাদ্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে তার বাবা ও শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে খাবার ও নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এছাড়া শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের একটি প্রতিনিধি দল আবদীন হাসপাতালে গিয়ে ওই দম্পতির খোঁজখবর নেয়। এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও তাদের দেড় মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য দেওয়া হয়েছে।
সাজু শেখ ও নুরজাহান দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং তারা মাঝে মাঝে বাবা-মায়ের খোঁজ নেন। ছেলেদের একজন করোনাকালে নিরুদ্দেশ হলেও মাঝে মাঝে যোগাযোগ করেন, অন্যজন ঢাকায় রিকশা চালান। অপর ছেলে নুর ইসলাম শেরপুরে দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সাধ্যমতো মা-বাবার দেখভাল করেন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তার নিজের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর আগে চিকিৎসার অভাবে তার স্ত্রীও ক্যানসারে মারা যান।
প্রায় পাঁচ বছর আগে পড়ে গিয়ে নুরজাহানের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। সাজু শেখ নিজেও বার্ধক্যের কারণে সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না এবং বধির হয়ে গেছেন। তা সত্ত্বেও স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসায় তিনি প্রতিদিন সকালে অসুস্থ স্ত্রীকে কোলে করে উঠানে নিয়ে আসেন এবং কাঁপা হাতে স্ত্রীর দৈনন্দিন সব সেবা করেন।
উপায়ান্তর না পেয়ে সাজু শেখ কাজের উদ্দেশ্যে মাঝে মাঝেই বাড়ির কাছের খুনুয়া বাজারে যেতেন, তবে কঙ্কালসার দেহের কারণে কেউ তাকে কাজ দিতে পারেনি। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে এবং বেহাল অবস্থার কারণে তাদের একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।