স্টাফ রিপোর্ট : সরাইলে পলাতক আসামি গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের কথা বলে এক নৃত্যশিল্পীকে ডেকে নেওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোজাহিদ (১৮)। তিনি সরাইল উপজেলার বুড়িশ্বর এলাকার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে। র্যাব-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সরাইলের উদ্দেশে ওই নৃত্যশিল্পী ও তাঁর দুই সহযোগী রওনা হন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজের মাধ্যমে রাকিব নামের এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজ বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের প্রস্তাব দেন। এ জন্য ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিনে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁরা সরাইলের কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে অপেক্ষমাণ রাকিব তাঁদের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতুর নিচে নিয়ে যান। পরে দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠতে বলা হয়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছানোর পর ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় রাকিবের সহযোগিতায় আরও দুই ব্যক্তি নৌকার ছাউনির ভেতরে প্রবেশ করে ওই নৃত্যশিল্পীকে ভয়ভীতি দেখান।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। নৌকায় থাকা অন্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে র্যাব জানিয়েছে। পরে নৃত্যশিল্পী ও তাঁর সহযোগীদের নাসিরনগর উপজেলার গোয়াকর্ণ এলাকার নদীর পাড়ে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা নৌকাযোগে পালিয়ে যান বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সরাইল থানায় মামলা করেন। র্যাব জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার পর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব-৯। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাহিদ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৯ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।