ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, কঠোর প্রচারণা বিধি

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৪ মাস আগে
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, কঠোর প্রচারণা বিধি

এক সময় বাড়ির দেয়াল, রাস্তা, বাজার কিংবা গাছ—যেদিকে চোখ যেত, সেদিকেই প্রার্থী ও দলের নাম-প্রতীকসংবলিত পোস্টার দেখলেই বোঝা যেত নির্বাচনী কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ভোটারের কাছে প্রার্থীর পরিচয় ও যোগ্যতা তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হিসেবেই এতদিন পোস্টারকে বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রচারণায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশোধিত আচরণবিধিমালায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে লিফলেট ও ব্যানারে প্রার্থী ও দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না হেলিকপ্টারও, তবে রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলে কেবল তারাই হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আলাদা করে বেশ কিছু ধারা যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো একটি টেলিভিশন সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন তফসিল ঘোষণার আগেই চূড়ান্ত করা হলেও, তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি মানাতে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই মধ্যে বিধি ভেঙে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় দেশের কয়েকটি স্থানে জরিমানার ঘটনাও ঘটেছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসরণ করে গত বছরের নভেম্বরে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’ চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন। এরপর গত ১০ নভেম্বর আচরণবিধিতে সংশোধন এনে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত বিধিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচন থেকে ভোটের প্রচারণায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ফলে বাংলাদেশে এই প্রথম পোস্টার ছাড়া জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিধিমালা চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মতামত নিয়েছি। একটি মাত্র রাজনৈতিক দল বাদে বাকি কোনো দলই এ নিয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি। তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন আগেই পোস্টার নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছিল।

পোস্টার নিষিদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসি সচিব বলেন, পরিবেশগত দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। তার ভাষায়, পোস্টার ছাপানোর পর অনেক প্রার্থী সেগুলো লেমিনেটিং করে, যা পরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। পোস্টারের কালি ফসলের মাঠের ক্ষতি করে। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী নির্বাচনে কেউ পোস্টার ব্যবহার করতে পারবে না।

তবে পোস্টার বন্ধ হলেও প্রার্থীরা লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এসব প্রচারণা সামগ্রী কোনো দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা কিংবা কোনো যানবাহনে লাগানো যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণা পত্র, বিলবোর্ড বা ফেস্টুনে রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘অনেক সময় একজনের পোস্টারের ওপর আরেকজনের পোস্টার লাগানো নিয়ে নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করেই আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় যানবাহনের ব্যবহারেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও, প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই। তবু তফসিল ঘোষণার পর চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন মোটরসাইকেল ও গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করায় নির্বাচন কমিশন তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

 

  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন