বিনোদন ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ধ্রুপদী সঙ্গীত খাতে শ্রমজীবী ও কম আয়ের পরিবারের সঙ্গীতশিল্পীদের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর লন্ডন কনটেম্পোরারি অর্কেস্ট্রার (এলসিও) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার দিনে নিজের অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রবার্ট এমেস। তিনি জানান, পর্যাপ্ত অর্থ বা পারিবারিক সহায়তা ছাড়া এই শিল্পে টিকে থাকা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এমেস নিজের শৈশবের কথা স্মরণ করে জানান, একটি শ্রমজীবী পরিবারে বেড়ে উঠলেও তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শেখার সুযোগ ছিল। স্থানীয় কাউন্সিলের সহায়তায় কম খরচে গান শেখার ব্যবস্থা এবং যুব অর্কেস্ট্রায় ধার করা ভায়োলা বাজিয়ে তিনি সংগীতচর্চা চালিয়েছিলেন। গ্রীষ্মকালীন সঙ্গীত কোর্সের খরচ জোগাতে তাকে আবর্জনা ফেলার কাজ থেকে শুরু করে খামারেও শ্রম দিতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে একজন সাধারণ সঙ্গীতশিল্পীকে বাদ্যযন্ত্র ক্রয়, প্রাইভেট টিউটরের ফি, যাতায়াত খরচ এবং বিশেষ করে লন্ডনের চড়া বাড়িভাড়ার মতো বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এমেসের মতে, মেধা সব জায়গাতেই রয়েছে, কিন্তু সুযোগ সবার জন্য সমান নয়। শিক্ষা গ্রহণ শেষে লন্ডনে ক্যারিয়ার ধরে রাখতে গিয়ে তাকে দিনের পর দিন অন্যের সোফায় ঘুমাতে হয়েছে এবং কখনো কখনো গৃহহীন অবস্থায় রাত কাটাতে হয়েছে।
লন্ডন কনটেম্পোরারি অর্কেস্ট্রা গঠনের শুরুর দিকে তিনি বছরের পর বছর অর্থহীন অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন। অন্যদিকে, পারিবারিক অর্থায়ন পাওয়া একজন উচ্চবিত্ত শিল্পী একই পরিশ্রম করলেও তার ঝুঁকির মাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে এই খাতে টিকে থাকা শুধু মেধার ওপর নয়, বরং দীর্ঘ সময় বিনাবেতনে কাজ করার সামর্থ্য বা আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এমেস জানান, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ৭০ শতাংশের বেশি সঙ্গীতশিল্পী স্বনিয়োজিত বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন। মিউজিশিয়ানস ইউনিয়ন ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটিশ অর্কেস্ট্রাসের ক্যাটাগরি ১ চুক্তি অনুযায়ী, ছয় ঘণ্টার রিহার্সাল ও কনসার্টের জন্য একজন শিল্পীকে সর্বনিম্ন ১৬৩.১৮ পাউন্ড ফি দেওয়া হয়। তবে এই ছয় ঘণ্টার পেছনে প্রায় ১৫ বছরের কঠিন প্রশিক্ষণ, দামি বাদ্যযন্ত্রের খরচ এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবৈতনিক প্রস্তুতির বিষয়টি আড়ালেই থেকে যায়।
সঙ্গীত খাতে “বৈচিত্র্য” বা “অ্যাকসেস” নিয়ে আলোচনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আবাসন খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় না কমিয়ে শুধু আলোচনা দিয়ে শ্রমজীবী শিল্পীদের ধরে রাখা সম্ভব নয়। আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে অনেক মেধাবী শিল্পী ক্যারিয়ারের শুরুতেই গান বাজনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে ধ্রুপদী সঙ্গীতে একই অর্থনৈতিক পটভূমির মানুষের আধিপত্য বাড়ছে, যা পুরো খাতের চিন্তাভাবনাকে সংকীর্ণ করে ফেলছে।
সূত্র: The Guardian – Culture

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।