
রোববার দুপুরে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় সাবেক সিইসি নূরুল হুদা সহ ১৯জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে বিএনপি। মি. হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।
ওই নির্বাচনের আগের রাতে ভুয়া ভোটের অভিযোগ উঠেছিলো এবং সে জন্য বিএনপি সবসময়ই নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে আসছিলো।
রোববার গত তিনটি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কমিশনের বিরুদ্ধে বিএনপি নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ করে। পরে থানায় গিয়ে মামলা করে।
ওদিকে সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ও পরে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করা মি. হুদা সিইসি হিসেবে তার দায়িত্ব পালন শেষে অবসর জীবন যাপন করছিলেন। তিনি গত বছর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেও নিজের বাসাতেই অবস্থান করছিলেন।
রোববার বিকেলে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মী পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তার বাসায় গিয়ে তাকে বের করে হেনস্থা করে। এ সময় দলবদ্ধ ব্যক্তিরা মি. হুদাকে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে দেয় ও জুতা দিয়ে মুখে আঘাত করে-এমন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হেনস্থার ওই ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও ওই ভিডিওতে দেখা গেছে। হেনস্থার পর মি. হুদাকে হেনস্থাকারীদের সামনে থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে রাতে তাকে বিএনপির করা মামলার আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
কিন্তু এর মধ্যেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
এ ঘটনার তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলছে, কেউ অপরাধ করলেও আইন আদালতকে পাশ কাটিয়ে এমন মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
