পলাতক ও অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানদের পুনর্বহালের বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদের আবেদন

লেখক: লিটন হোসাইন জিহাদ
প্রকাশ: ৯ মাস আগে
পলাতক ও অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানদের পুনর্বহালের বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদের আবেদন


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : দেশজুড়ে চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পলাতক ও অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পুনরায় দায়িত্ব প্রদান বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।

গত ৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়া এক দরখাস্তে সংগঠনটি জানায়, বিগত সরকারের মদদপুষ্ট অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। গণমাধ্যম ও বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ১,৪১৬টি ইউনিয়নে দায়িত্বশূন্যতা বিরাজ করছে, যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদ আরও দাবি করে, ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণবিপ্লব’-এর সময় এসব জনপ্রতিনিধির একটি বড় অংশ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা ও নির্যাতনের মামলাও চলমান রয়েছে।

দরখাস্তে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার ইতোমধ্যে ৩৬৩টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক এবং ১,০৫৩টি ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগের নির্দেশ দিলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অনেক ইউনিয়নে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং কিছু ইউনিয়নে পলাতক ও অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের পুনরায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

গণঅধিকার পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা দাবি করেছে—পলাতক ও অভিযোগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পুনর্বহাল গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী। এতে দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি অনুযায়ী,অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের স্থায়ীভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা সৎ, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও জনসমর্থনপুষ্ট ব্যক্তিদের প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আশরাফুল হাসান তপু সাংবাদিকদের জানান, তারা জনগণের পক্ষে এ আবেদন জানিয়েছে এবং আশাবাদী যে জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. দিদারুল আলম জানান, আবেদন পেয়েছি। উর্ধতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ 

উল্লেখ্য যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৯টি উপজেলায় প্যানেল চেয়ারম্যান এবং প্রশাসক ছাড়াও বেশ কয়েকটিতে পলাতক ও অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানদের পূর্ণবহাল হতে দেখা গেছে।