প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় তেজগাঁও কলেজে বিশেষ নফল নামাজ আদায়: আল্লাহর কাছে অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা

লেখক: জিহাদুল ইসলাম জিহাদ
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ভূমিকম্পসহ সকল প্রকার বিপদ থেকে মহান আল্লাহর পানাহ ও রহমত কামনার উদ্দেশ্যে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ মাঠে এক বিশেষ নফল নামাজ আদায় করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার কাছে নরসিংদীর মাধবদীতে গত শুক্রবার যে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছিল, তাতে কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত মারা গেছে অন্তত দশ জনের বেশি, আর আহত হয়েছে পাঁচশোর অধিক মানুষ।

এরপর গতকাল ২২ নভেম্বর শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোট ছোট তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

প্রথমটি সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলা।

এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে একটি এবং ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়—মাত্র এক সেকেন্ড ব্যবধানে এই দুটি ভূমিকম্প হয়।

কলেজের ইসলামপ্রিয় ও সচেতন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই ব্যতিক্রমী আধ্যাত্মিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রোববার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আয়োজিত এই মহতী জামাতে শিক্ষার্থীরা আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের ক্ষমা চান এবং দেশ-জাতিকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপদ থেকে রক্ষার জন্য মিনতি জানান।

ইসলামী নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্যোগকালীন সময়ে বা দুর্যোগের আশঙ্কায় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা করা মুমিনের কর্তব্য। সেই চেতনা থেকেই শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে এই নফল নামাজের আয়োজন করেন।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দোয়া-মোনাজাত ও নামাজের ইমামতি করেন তেজগাঁও কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ রাকিবুল হাসান।

নামাজের পর তিনি ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রস্তুতি এবং তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

জামাতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল গভীর অনুশোচনা, তাওবা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা। নামাজ শেষে বহু শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত নয়নে দেশ, জাতি ও মানবতার নিরাপত্তা কামনায় কান্নাকাটি করেন।

বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী আযান মাহমুদ বলেন, “যখন সব মানবিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ মনে হয়, তখন একমাত্র ভরসা আল্লাহ।”

এই নফল নামাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভূমিকম্প চলাকালীন করণীয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কোরআন-হাদিসে বর্ণিত মাসনুন দোয়া শেখানো হয়—যা ধর্মীয় অনুশাসন ও বাস্তব প্রস্তুতির এক অপূর্ব সমন্বয়।