ফুলবাড়ীর আলুচাষিরা চরম লোকসানের মুখে, উৎপাদন খরচও উঠছে না
ফুলবাড়ী উপজেলার আলুচাষিরা চলতি মৌসুমে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এক কেজি আলু খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৮–৯ টাকা, পাইকারি দরে ৬–৭ টাকা, যা শ্রমিকের মজুরি পর্যন্ত মেটাতে পারছে না। দিনাজপুরের কৃষকরা জানান, দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তুলনামূলক ভালো ফলন পেলেও উৎপাদন খরচের সঙ্গে তুলনা করলে প্রতি বিঘায় ২৭–২৮ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।
শিবনগর ইউনিয়নের আলুচাষি প্রদীপ রায় বলেন, দুই বিঘা জমিতে ৮০–৮৫ বস্তা আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বস্তা ৩০০–৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচের পর প্রকৃত লাভের চেয়ে অনেক কম যাচ্ছে। সমশেরনগরের সাইদুর রহমানও জানান, আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষের খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও কেজি প্রতি ৭ টাকায় বিক্রি হওয়ায় উৎপাদন খরচও উঠছে না।
আলু ব্যবসায়ী জয়ন্ত সাহা বলেন, গত বছরের মতো এবারও আলু চাষে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ধার-দেনা ঋণ করে আবারও আবাদ করেছেন অনেকেই, কিন্তু বাজারের পতনের কারণে লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না। কৃষকরা জানান, আলু তোলা শেষ পর্যায়ে; কয়েকদিন আগে বাজারে দাম ১২–১৫ টাকা কেজি ছিল, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, এ বছর উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর, যেখানে উৎপাদন ধরা হয়েছিল ৩৫,৫২০ মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ চাষাবাদ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তবে বাজার দর নির্ধারণের দায়িত্ব কৃষি বিপণন বিভাগের।
ফলে ফলন ভালো হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্রমাগত ক্ষতির মুখে পড়ছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলছে এবং কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
