— বিজ্ঞাপন —

বাঁশির শব্দে থামে বাজার: নাটোরের চাঁদপুর বাজারের বিরল সম্প্রীতির গল্প

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৮ বছর আগে বাজার কমিটি ও স্থানীয় মাদ্রাসা কমিটির উদ্যোগে চালু হয় এই নিয়ম। কেউ অকারণে দোকান খোলা রাখলে রয়েছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও। আজান দেওয়ার পরে দোকানপাট যদি বন্ধ না করে, ৫ হাজার টাকা জরিমানা।
maxresdefault (3)
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

একটি বাঁশির শব্দ, আর সেই শব্দেই মুহূর্তের মধ্যে থেমে যায় পুরো বাজারের কোলাহল। দোকানের শাটার নামিয়ে বাইরে মালপত্র রেখেই মসজিদের পথে ছুটে যান ব্যবসায়ীরা। নেই চুরির ভয়, নেই নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও নাটোরের নলডাঙ্গার চাঁদপুর বাজারে গত ২৮ বছর ধরে চলে আসছে এমনই এক ব্যতিক্রমী রীতি।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমাদের এই চাঁদপুর বাজারে একই নিয়ম চালু আছে। সারাদিন যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর থাকে বাজার। মাগরিবের আযান এলেই সেখানে নেমে আসে নীরবতা। আযানের ৫ মিনিট আগে মসজিদ কমিটির সভাপতির বাঁশির সংকেত। আর আযান শুরু হতেই বন্ধ হয়ে যায় বাজারের প্রায় ১০৫টি দোকান। এরপর মুসলিম ব্যবসায়ীরা ছুটে যান জামাতে নামাজ আদায় করতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৮ বছর আগে বাজার কমিটি ও স্থানীয় মাদ্রাসা কমিটির উদ্যোগে চালু হয় এই নিয়ম। কেউ অকারণে দোকান খোলা রাখলে রয়েছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও। আজান দেওয়ার পরে দোকানপাট যদি বন্ধ না করে, ৫ হাজার টাকা জরিমানা।

তবে চাঁদপুর বাজারের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর পারস্পরিক সংবাদ। বাজারের প্রায় ২০ টি দোকানের মালিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আজানের সময়ে তারাও মুসলিম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিজেদের দোকান বন্ধ করে দেন। আমরা মিলিতভাবে সবার সাথে সম্মিলিতভাবে ভালো আছি। সন্ধ্যা বেলা যখন বাঁশি দেন ও চাচা, মসজিদে চলে যাই আমরাও আমরা হাত মুখ দিয়ে টিউবল থেকে জল টল নিয়ে এসে আমরা সববাদই দিই। এরপর বাড়িতে ফিরে পালন করেন নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি। ধর্ম আলাদা উপাসনার পদ্ধতি আলাদা কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সম্প্রীতির বন্ধন এক।

আরও অবাক করা বিষয় হলো দোকানের বাইরে মালপত্র রেখেই সবাই নামাজে চলে গেলেও চুরির আতঙ্কে ভুগতে হয় না ব্যবসায়ীদের। কারণ এখানে একে অপরের প্রতি বিশ্বাসটাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। শুধু তাই নয় রমজানের দিনের বেলায় হোটেল বন্ধ রাখা এবং জুয়া সহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বাজারকে দূরে রাখার মত সামাজিক নিয়মও মেনে চলেন স্থানীয়রা।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗