বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কর্তৃক নাসিরনগরে এমপি প্রার্থী সাইফুল্লাহ বিন আনসারীর সাক্ষাৎকার

লেখক: দেলোয়ার হোসাইন মাহদী
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তকদের মতামত তুলে ধরতে দেলোয়ার হোসাইন মাহদীর সঞ্চালনায় পথিক টিভির ধারাবাহিক বিশেষ আয়োজনে চলছে “রাষ্ট্র ভাবনায় নবপ্রজন্ম”। এর দ্বিতীয় পর্বে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের এমপি পদপ্রার্থী, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা জুবায়ের আহমাদ আনসারী (রহ.) এর সুযোগ্য সন্তান হাফেজ মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন আনসারী।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী: দেশ সংস্কার নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন ?

সাইফুল্লাহ বিন আনসারী: দেখুন, গত ষোলো বছরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে এই দেশের কাঠামোকে ধ্বংস করে গেছে, এখন এর গোড়া থেকে সংস্কার প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, আপনি যদি লক্ষ্য করে দেখেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধান টার্গেটে রূপ নিয়েছিলো ইসলাম এবং এ দেশের ইসলামপন্থীরা। এই ধারাবাহিকতায় আমরা একটি নতুন দেশ বিনির্মাণ করতে চাই, এই দেশটিকে ঢেলে সাজাতে চাই, যেখানে আর নব্য কোনো ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে না। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হবে এবং এদেশের আপামর ইসলামি জনতার স্বাধীনতা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : তরুণদের হাতে দেশের ক্ষমতা দিতে দেশবাসী কতটা প্রস্তুত বলে আপনি মনে করেন ?

সাইফুল্লাহ বিন আনসারী : আসলে, বিষয়টি এখানে তরুণদের হাতে দেশের ক্ষমতা দেয়াটা নয়। বরং এ দেশের রাজনীতিতে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণটাই বেশি জরুরী। আপনি দেখুন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের অবদান অনস্বীকার্য। গত ফ্যাসিস্ট আমলে আমরা দেখেছি অবমূল্যায়নের শিকার হয়ে দেশ ত্যাগ করেছে হাজারো তরুণ, যারা এ দেশের পলিটিক্সকে ঘৃণা করেছে। বিদেশে গিয়ে নিজের মেধার বিকাশ করেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে আমাদের এই দেশের, দশের।
তাই আমি মনে করি, ক্ষমতায়নের চাইতেও এ দেশের তরুণ প্রজন্ম আবারো রাজনীতিতে ঝুঁকছে, এ দেশের মানুষকে নিয়ে তারা নিত্যনতুন ভাবনা এবং সম্ভাবনা তৈরি করছে—এটাই বরং দারুণ সংবাদ। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুদূর প্রসারী ফায়দা নিয়ে আসবে।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব কতটুকু পূরণ হবে বলে আপনি মনে করেন ?

সাইফুল্লাহ বিন আনসারী : বর্তমান পৃথিবীতে যতগুলো নির্বাচন ব্যবস্থা প্রচলিত, এর মধ্যে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি অন্যতম। এই পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা উভয় দিকই রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় যে সংকট মনে হয় এই পদ্ধতির তা হলো—সরকার আন্সট্যাবল হয়ে যায়, একটি মজবুত সরকার গঠিত হয় না। আবার বিদ্যমান বাংলাদেশের প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থাতেও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভোটের প্রতিফলন হয় না।
তাই আমরা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা পেশ করেছি—বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন, তবে বহুদেশে প্রচলিত পদ্ধতি এমএমপি (Mixed Member PR)। অর্থাৎ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদে নিম্নকক্ষে সাধারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে এবং উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে। এক্ষেত্রে জনগণের ভোটের বাস্তব প্রতিফলনও হবে এবং এদেশের সরকার ব্যবস্থাও মজবুত থাকবে।

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : জোটবদ্ধ রাজনীতির মাধ্যমে ইসলামি দলগুলো নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সামর্থ্য হবে বলে আপনি মনে করেন কি না ?

সাইফুল্লাহ বিন আনসারী : দেখুন, ইসলামপন্থী রাজনীতি আমরা যারা করি, আমাদের স্বপ্ন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়। আমাদের মানজিলে মাক্বসুদ হলো খেলাফত প্রতিষ্ঠা। বর্তমান রাজনৈতিক বন্দোবস্তকে কাজে লাগিয়ে জনবল তৈরি করার মাধ্যমে এক বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য পানে এগিয়ে যেতে বর্তমান পরিস্থিতিতে জোটবদ্ধতার বিকল্প নেই। তাই আমি মনে করি, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে ইসলামপন্থীদের জোটবদ্ধ রাজনৈতিক পদ্ধতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী।