বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সেক্রেটারির কলেজ পড়ুয়া সন্তানকে কারাগারে প্রেরণ

সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

ইয়াসিন মাহমুদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পূর্ব মেড্ডা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিল কে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায়-২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে নির্দোষ এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের দাবি,গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম আরিয়ান (১৭) সম্পূর্ণ নির্দোষ, এবং সে পূর্বে ও কোনো রাজনৈতিক দলের বা কোন ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত নয় বলে পরিবার এবং এলাকাবাসীর দাবি।

জানা গেছে গত-১১ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পূর্ব মেড্ডা কোকিল টেক্সটাইল মেইলের সামনে ছাত্রলীগের ঘোষিত নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। উক্ত মিছিল কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নিয়েছেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

উক্ত মিছিলের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসেন। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ বাদী হয়ে-২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ২৩-১২-২৬। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেন। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির দুর্দিনের ত্যাগী নেতা, ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারী,বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মেড্ডা এলাকার বিশিষ্ট শালিস কারক মো.অহিদ মিয়ার ছেলে আশিকুল ইসলাম আরিয়ানকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় সোপর্দ করেন।

গ্রেফতার হওয়া আরিয়ান স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। আরিয়ানের মা রুবি বেগম অভিযোগ করে বলেন,আমার নিষ্পাপ নাবালক সন্তান কে তারা সন্দেহ মূলক ভাবে তুলে নিয়ে যায়। আমার ছেলের বর্তমান বয়স-১৭ চলমান।

মামলার এজাহারে আমার ছেলেকে-২০ বছর উল্লেখ করে কোন ধরনের প্রমাণ ছাড়া তুলে নিয়ে যাওয়া যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়, এবং ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে যাবে দূরের কথা সে মহল্লা ছেড়ে অন্য এলাকায় ঘুরতে ও সে যায়না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আমার ছেলে ছাত্রলীগের কোনো প্রোগ্রামে যায় নি।

তিনি আরও বলেন,যারা রাজনীতি করে বা মিছিলে ছিল তারা তো পুলিশের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আমার ছেলে যদি মিছিলে থাকতো তাহলে সে কি বাসায় থাকতো বলেন। পুলিশ ঘর থেকে ধরে এনে অজ্ঞাত দেখিয়ে আমার নিরপরাধ ছেলেকে আসামি বানিয়ে তার জীবনকে অন্ধকার ছায়া ডেকে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ যথাযথ তদন্ত ছাড়াই-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের দাবি,মামলায় নিরীহ সাধারণ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকৃত দোষীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এমনকি আসামিদের তালিকায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তার নামও রয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

এবিষয়ে সদর থানার এক নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথমে জবাব দেয় আরিয়ান মিছিলে ছিলেন। এবিষয়ে এক নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসিরকে
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলে পরবর্তীতে জানায় মিছিলের পেছনে ছিল।

আরিয়ান যে মিছিলে ছিলেন,এর সঠিক কোনো প্রমাণ আজো দেখাতে পারেনি ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসির

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহিদুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভোক্তভোগী পরিবারের দাবি আমার সন্তান নির্দোষ,সে কোন ধরনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। আমার নির্দোষ সন্তান কে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে আমাদের কুলে ফিরিয়ে দিন।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ