ব্রাজিলে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই রাজধানী ব্রাসিলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন বামপন্থী দল থেকে চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার লড়াইয়ে থাকা ৮০ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ৪৫ বছর বয়সী ডানপন্থী সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
ফ্লাভিও বলসোনারো হলেন সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অভ্যুত্থান চক্রান্তের অভিযোগে জাইর বলসোনারো ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থতার কারণে গৃহবন্দী থেকে সাজা ভোগ করছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হলে বাবাকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার ছেলে ফ্লাভিও।
গত ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার ভোটাভুটিতে ফ্লাভিও বলসোনারো এগিয়ে ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দফার সেই ফলকে “বিশাল” বিজয় বলে অভিহিত করেছিলেন। ব্রাজিলের নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে পারেননি।
প্রচারণার শেষ দিনে মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তিতে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন ফ্লাভিও। সেখানে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক ভিডিওতে বলেন, আগামী ৩০ বা ৪০ বছরের জন্য দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সংগঠিত অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ এবং কর ও সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রিউ দি জানেইরোতে তার সমর্থকরা জাতীয় পতাকার রঙে পোশাক পরে র্যালিতে অংশ নেন।
অন্যদিকে, প্রথম দফার ভোটে ৩৩ মিলিয়ন মানুষ ভোট না দেওয়ায় চূড়ান্ত পর্বে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে লুলার সমর্থকরা বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেন। শনিবার রিউ দি জানেইরোর কোপাকাবানা সৈকতে বিশাল জনসভায় লুলা এই নির্বাচনকে “সারভৌমত্বের” বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মানুষ এমন একজনকে বেছে নেবে যিনি ব্রাজিলের পতাকায় চুমু খান, নাকি তাকে যে আমেরিকান পতাকায় চুমু খান।
লুলা প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিল, তবে ওয়াশিংটন সেই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া লুলা ও তার ওয়ার্কার্স পার্টি এই নির্বাচনকে “গণতন্ত্রের লড়াই” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। লুলার আমলে ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। লুলার সাফ কথা, ব্রাজিল কারও ব্যাকইয়ার্ড বা প্রাঙ্গণ নয়।
বিপরীতে ফ্লাভিও বলসোনারোর যুক্তি, শক্তিশালী অপরাধী চক্রগুলোকে দমন করতে ওয়াশিংটনের সাথে কাজ করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি লুলার দলকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে আখ্যা দিয়ে অতীতের আর্থিক কেলেঙ্কারির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশকালে লুলা সাও পাওলোতে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। আর ফ্লাভিও বলসোনারো থাকবেন রাজধানী ব্রাসিলিয়ায়, যেখানে তার বাবা বর্তমানে গৃহবন্দী আছেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।