
বাংলাদেশের দক্ষিণের একমাত্র দ্বীপ জেলা—ভোলা।
প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস এই জেলার বুকে।
কৃষি, মাছ আর নদীর ওপর ভরসা করে বেঁচে থাকা মানুষের স্বপ্ন এখন একটাই—ভোলা-বরিশাল সেতু।
আজ আমরা দেখাবো সেই মানুষের গল্প… সেই শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম… আর সেই দীর্ঘশ্বাস, যা প্রতিদিন ভেসে আসে তেতুলিয়া নদীর বুক থেকে।
ভোলা—একটি সম্ভাবনার জেলা।
কিন্তু সরাসরি কোনো জেলাসংযোগ না থাকায় আজও পিছিয়ে আছে উন্নয়নের পথে।
নেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নেই উন্নত সড়ক যোগাযোগ, নেই শিল্প-কারখানা।
ভোলার মানুষ আজও জেলে, কৃষক আর দিনমজুরের কাঁধে ভর করে জীবন চালায়।
তাদের দাবি একটাই—
“আমাদের সেতু চাই, আমাদের বাঁচার অধিকার চাই।”
ভোলার ঘরে ঘরে আজও রান্না হয় কাথা পোলার গ্যাস।
যেহেতু ভোলাতে এই গ্যাস রয়েছে, তাহলে ভোলার মানুষই আগে পাওয়ার কথা—
কিন্তু সেই গ্যাস ভোলার মানুষের ঘরেও পৌঁছাতে সময় লাগে বছর বছর।
২২ লাখ মানুষের স্বপ্নের সেতু আজও কাগজে-কলমে।
ভোলার মানুষের হাসপাতালে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি, লঞ্চ—
কখনও ঝড়, কখনও জীবন-মৃত্যুর লড়াই।
একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হলে কত মানুষ বেঁচে যেত—
সেই প্রশ্ন আজ হাজারো পরিবারের।
ভোলার ছেলেরা—যাদের হাতে বই থাকা উচিত,
তারা আজ দাবি আদায়ের জন্য হাঁটছে প্রান্ত থেকে রাজধানী পর্যন্ত।
হাজারো শিক্ষার্থী ভোলা থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা—
কেবল একটি দাবি নিয়ে: “ভোলা-বরিশাল সেতু চাই”
তারা শুধু হেঁটেই থামেনি।
তেতুলিয়া নদী সাঁতরে বরিশালে পৌঁছেছেন ২২ জন শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে।
তাদের দাবি—এটি রাজনৈতিক দাবি নয়,
এটি জীবন বাঁচানোর দাবি।
➤ ১ — একজন শিক্ষার্থীর সংলাপ
“আমরা কেউ রাজনীতি করতে আসিনি।
আমরা শুধু চাই—ভোলার মানুষও যেন সহজে হাসপাতালে যেতে পারে।
চাকরির জন্য যেন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যেতে পারে।
আমাদের দাবি খুব সাধারণ—সেতু হলে ভোলা বাঁচবে।”
ভোলায় প্রতিদিন কেউ না কেউ অসুস্থ হয়—
কারও মা, কারও বাবা, কারও সন্তান।
তারা বরিশাল যেতে চায়—
কিন্তু ফেরি নেই, নদী উত্তাল, সড়ক নেই, সেতু নেই।
ভোলার অনেক মানুষই আজও দারিদ্র্যের নিচে,
চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু,
চাকরির অভাবে বেকারত্ব,
জীবনযুদ্ধে পরাজয়—
এই সবই তাদের প্রতিদিনের গল্প।
একজন বৃদ্ধা মা বলেন—
“আমার ছেলে বাঁচত যদি সময়মতো বরিশাল নিতে পারতাম…”
একজন জেলে বলেন—
“আমরা দেশকে মাছ দেই, কিন্তু যোগাযোগ পাই না।”
বাংলাদেশ এগোচ্ছে, উন্নয়ন হচ্ছে—
কিন্তু ভোলা কি তার ভাগ পাচ্ছে?
একটি সেতু হলে এই জেলায় যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা—সবকিছু পাল্টে যেত।
ভোলা-বরিশাল সেতু শুধু একটি প্রকল্প নয়—
এটি ২২ লাখ মানুষের মুক্তির পথ।
ভবিষ্যতে সেতু হলে—
আপনাদের জন্য আমরা সংগ্রহ করেছি ভোলার সাধারণ মানুষের দাবি—
“আমাদের দাবি রাজনীতি নয়, আমাদের বাঁচার দাবি—সেতু চাই।”
“চিকিৎসার জন্য পথে পথে মরতে চাই না।”
“আমরা বাংলাদেশি—আমরাও উন্নয়ন চাই।”
ভোলার মানুষের কান্না, দাবি আর সংগ্রাম বছরের পর বছর ধরে চলেছে।
১৯৭১ সালে যেভাবে তারা নিজের জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে—
আজ তারা সেই একই উদ্যমে দাবি করছে—
“আমাদের সেতু চাই।”
আজ সরকার, নীতিনির্ধারক, রাষ্ট্র—
সবার কাছে ভোলার মানুষের প্রশ্ন—
২১শ শতকে ২২ লাখ মানুষের জন্য একটি সেতু কি খুব বেশি চাওয়া?
