আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ন
যুক্তართველოს আসন্ন নির্বাচনে অর্থায়নে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন ১৫ জন বড় দাতা। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বুধবার পর্যন্ত এসব দাতা রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে ১৫০ কোটি ডলারের (প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা) বেশি অনুদান দিয়েছেন। এর ফলে এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল নির্বাচনে পরিণত হতে যাচ্ছে।
অনুদানের এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তিনি রিপাবলিকানদের সমর্থনে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে গত ১ জুলাইয়ের পরেই তিনি দিয়েছেন ২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ওপেনসিক্রেটস’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালে নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ের সীমা তুলে নেওয়ার পর এটিই একক কোনো দাতার সর্বোচ্চ অনুদানের রেকর্ড। মাস্কের অনুদানের একটি বড় অংশ গিয়েছে রিপাবলিকানপন্থি ‘আমেরিকা পিএসি’ এবং ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে (এসএলএফ)’।
এবারের নির্বাচনে বড় দাতাদের মধ্যে প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। শীর্ষ ১৫ জন দাতার মধ্যে অন্তত পাঁচজন এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণাকারী সংস্থা ‘ইস্যু ওয়ান’-এর পরিচালক মাইকেল বেকেল জানান, নিজেদের ব্যবসায়িক খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার লক্ষ্যে এসব খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাজনীতিবিদ ও তাদের সহায়ক সংস্থায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন।
প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টো খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেনজামিন হোরোভিৎস ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। এর মধ্যে এআই-বান্ধব সুপার পিএসি ‘লিডিং দ্য ফিউচার’-এ ৫ কোটি ডলার, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক সুপার পিএসি ‘ফেয়ারশেক’-এ ৪ কোটি৬৮ লাখ ডলার এবং ট্রাম্পপন্থি ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’-এ ১ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়েছেন তারা। এছাড়া ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘কয়েনবেস’ প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ‘রিপল ল্যাবস’ ও এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস লারসেন ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে গোপন অনুদান বা ‘ডার্ক মানি’-র ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শীর্ষ ১৫ দাতাদের তালিকায় এমন চারটি ‘৫০১সি৪’ অলাভজনক সংস্থা রয়েছে, যাদের দাতার পরিচয় প্রকাশ করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। অলাভজনক সংস্থা ‘ওয়ান নেশন’ রিপাবলিকানদের এসএলএফ-কে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ‘আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’ অনুদান দিয়েছে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে ‘হাউস মেজরিটি ফরওয়ার্ড’ এবং ‘মেজরিটি ফরওয়ার্ড’ যথাক্রমে ৯ কোটি ৫০ লাখ ও ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রদান করেছে।
গোপন অনুদানের বিষয়ে ‘ক্যাম্পেইন লিগ্যাল সেন্টার’-এর জ্যেষ্ঠ আইন উপদেষ্টা শ্যানা পোর্টস জানান, বছরের পর বছর এভাবে পরিচয় গোপন রেখে বিপুল অর্থ যোগানের প্রবণতা বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভোটারদের জানার অধিকার রয়েছে এসব বিজ্ঞাপনের পেছনে কারা অর্থ জোগাচ্ছেন।
প্রথাগত ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাতারাও এই নির্বাচনে বিপুল অর্থ ঢালছেন। রিপাবলিকানদের সমর্থনে ধনকুবের দম্পতি এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউলেইন ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জর্জ সরোস দিয়েছেন অন্তত ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ইসরায়েলি-আমেরিকান ব্যবসায়ী মিরিয়াম অ্যাডেলসন রিপাবলিকান পিএসিগুলোতে প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ধনকুবের জেফ ইয়াস ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ কোটি ২৬ লাখ ডলার দিয়েছেন এবং নির্বাচন ঘিরে আরও বিপুল অর্থ খরচের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।