‎মুঘল স্থাপত্যের নীরব সাক্ষী সরাইলের ঐতিহাসিক আরিফাইল মসজিদ ‎প্রায় চারশ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে আরিফাইলঅনন্য শাহী জামে মসজিদ

‎প্রায় চারশ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে আরিফাইলঅনন্য শাহী জামে মসজিদ
12710
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

‎মুঘল স্থাপত্যের নীরব সাক্ষী সরাইলের ঐতিহাসিক আরিফাইল মসজিদ

‎প্রায় চারশ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে আরিফাইলঅনন্য শাহী জামে মসজিদ

‎ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন স্থাপত্যের অপূর্ব সমন্বয়ের নাম আরিফাইল মসজিদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার আরিফাইল গ্রামে অবস্থিত প্রায় চারশ বছরের পুরোনো এই মসজিদ আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে এটি শুধু সরাইলের নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা।

‎সরাইল উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ হিসেবে পরিচিত। সরকারি পর্যটন তথ্যেও এটিকে মুঘল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৬৬২ সালে দরবেশ শাহ আরিফ এই মসজিদ নির্মাণ করেন এবং তাঁর নাম থেকেই ‘আরিফাইল মসজিদ’ নামটির প্রচলন ঘটে। তবে সরকারি তথ্য বলছে, মসজিদটির নির্মাণকাল ও নির্মাতার বিষয়ে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১৬৬২ সালের তথ্যটি জনশ্রুতি হিসেবে বিবেচনা করাই যথাযথ।

‎তবে ইতিহাসের এই অনিশ্চয়তাই যেন আরিফাইল মসজিদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদটির বয়স, নির্মাণশৈলী এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা লোককথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

‎প্রাচীন এই মসজিদের স্থাপত্যে মুঘল যুগের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট। রয়েছে তিনটি গম্বুজ, চার কোণে বুরুজ/মিনার, পুরু দেয়াল, নান্দনিক মিহরাব এবং অলংকরণ। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি।

‎মসজিদের স্থাপত্যশৈলী দর্শনার্থীদের সহজেই আকৃষ্ট করে। এর প্রাচীন নির্মাণ কৌশল, পুরু দেয়াল ও অলংকরণে বাংলার মুসলিম স্থাপত্যের ঐতিহ্যের ছাপ পাওয়া যায়।

‎আরিফাইল মসজিদের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক ‘জোড়া কবর’, যা স্থানীয়ভাবে নানা রহস্য ও কিংবদন্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মসজিদের আশপাশে রয়েছে বিশাল সাগরদিঘিও। মসজিদ, জোড়া কবর ও দিঘি—এই তিনটি স্থাপনা মিলিয়ে স্থানটি পরিণত হয়েছে সরাইলের অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক এলাকায়।

‎জোড়া কবরকে ঘিরে বিভিন্ন লোককথা প্রচলিত থাকলেও এর প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে নিশ্চিত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। তাই লোককথা ও প্রামাণ্য ইতিহাসকে আলাদা করে দেখা জরুরি

‎সরাইলের ইতিহাসের সঙ্গে এই মসজিদের অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রাচীন জনপদ হিসেবে সরাইলের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস দীর্ঘদিনের। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আরিফাইল মসজিদ আজও অতীতের স্থাপত্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি জীবন্ত স্মারক।

‎দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা মসজিদটি দেখতে আসেন। ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতেও মানুষের আগ্রহ রয়েছে।

‎প্রায় চারশ বছরের পুরোনো এই স্থাপনা শুধু একটি মসজিদ নয়—এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের অংশ। তাই এর মূল স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে নিয়মিত সংরক্ষণ, গবেষণা, তথ্যফলক স্থাপন এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

‎আরিফাইল মসজিদকে ঘিরে সঠিক ইতিহাস অনুসন্ধান, পুরোনো নথি সংরক্ষণ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বাড়ানো গেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সম্পর্কে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য জানতে পারবে।

‎কালের স্রোতে অনেক স্থাপনা হারিয়ে গেছে। কিন্তু আরিফাইল মসজিদ আজও দাঁড়িয়ে আছে—নীরবে, গৌরবে, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। মুঘল আমলের স্থাপত্য, ধর্মীয় আবহ ও সরাইলের ঐতিহ্যকে একসূত্রে ধারণ করে এটি হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক অমূল্য প্রত্নসম্পদ।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ