আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ন
পাকিস্তানের মুলতানে তৌকির নাজির নামে এক ঠিকাদারের গাড়ির ধাক্কায় ১৫ বছর বয়সী এতিম কিশোর ওয়াসিম আব্বাসের করুণ মৃত্যু হয়েছে। ওই কিশোরকে ঠিকাদারের কাছে কাজ শিখতে পাঠানোর আগে তার আইনগত অভিভাবকের পূর্ণ সম্মতি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।
এআরওয়াই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ওয়াসিম আব্বাসের আইনি অভিভাবক ছিলেন তার চাচা। ‘খুদি’ নামের এতিমখানার প্রধান শোয়েব হায়দার জানান, ওয়াসিমের চাচাই তাকে উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধের পর ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ শেখানোর জন্য ওয়াসিমকে ঠিকাদার তৌকির নাজিরের কাছে পাঠানো হয়।
ঘটনার প্রায় সাত থেকে আট দিন আগে ওয়াসিমকে ঠিকাদারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এতিমখানার প্রধান দাবি করেন, এর আগে ঠিকাদার তৌকিরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে তদন্তে দেখা গেছে, উক্ত এতিমখানাটি পাঞ্জাবের চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ব্যুরোর নিবন্ধিত নয়। এ বিষয়ে এতিমখানার প্রধান জানান, তারা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন এবং শিগগিরই অনুমোদন পাবেন বলে আশা করছেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পাঞ্জাব চ্যারিটি কমিশনের অধীনে নিবন্ধিত রয়েছে এবং সেখানে ১৫০ জন এতিম শিশু বসবাস করছে।
মুজাফফরগড়ের বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সী ওয়াসিম আব্বাস ২০২১ সালে তার ভাই এবং ফুফাতো ভাইয়ের সাথে এই এতিমখানায় ভর্তি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, মুলতানের একটি বেসরকারি আবাসন এলাকায় দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় ওয়াসিম মারা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার তৌকির নাজির গাড়ি নিয়ে ওয়াসিমকে তাড়া করেছিলেন। মূল অভিযুক্ত তৌকির নাজিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে তৌকির নাজির দাবি করেছেন, ওয়াসিম তার কাছে ইলেকট্রিক কাজ শিখছিল। সে অনুমতি ছাড়াই কাজ ফেলে চলে যাচ্ছিল। তাকে থামানোর জন্যই তিনি তার পেছনে গাড়ি চালিয়েছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর প্রথমে পায়ে হেঁটে এবং পরে আমজাদ আলী নামে অন্য এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে গাড়িতে করে ওয়াসিমকে তাড়া করেন তৌকির। ধাওয়ার একপর্যায়ে দ্রুতগতির গাড়িটি ওয়াসিমকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে একটি বাড়ির গেটের সাথে সজোরে আঘাত পায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।