আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের মারাত্মক অবনতির মধ্যেই নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্টোরা জানান, ইউক্রেনের জন্য এক অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে এই বৈঠকের আয়োজন করতে নরওয়ে ও প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। বৈঠকে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্সিয়াল উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অংশ নেন।
এর আগে ইউক্রেনকে আমেরিকার পক্ষ থেকে সময়মতো গোয়েন্দা তথ্য না দেওয়ায় মানুষ মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই অভিযোগকে কেলেঙ্কারি বা ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তন্নভ (যিনি ‘ফ্ল্যাশ’ নামেও পরিচিত) বিবিসিকে জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তার মতো নির্ভরযোগ্য মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের অভাবে ইউক্রেনে মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। রুবিও বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন এবং তিনি জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো তথ্য আটকানো হয়নি। তবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে দেরি হতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
ওয়াশিংটন ও কিভের মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এতটাই তিক্ত হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন এবং অন্য কারও উচিত দেশটির পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া। ওসলোর বৈঠকের পূর্বে জেলেনস্কি ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। তারা নিশ্চিত করতে চান যে, যুদ্ধ যেন আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত শান্তিতে পৌঁছায়।
ওসলোর এই বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষে যোগ দিয়েছেন দেশটির গোয়েন্দা প্রধান রুস্তেম উমেরোভ এবং প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা দাভিদ আরাখামিয়া। চলতি মাসের শুরুতে এই দুই কর্মকর্তা মায়ামিতে উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর ডিজেল রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সেখান থেকে জ্বালানি আমদানির ঘোষণা দিলে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠকটি স্থগিত করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইউক্রেন তাদের কিছুটা অংশীদার হলেও মাঝে মাঝে দুই দেশের স্বার্থ ভিন্ন রূপ নেয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করা উচিত বলে তিনি মনে করেন না এবং ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা বন্ধ করা। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জও ওয়াশিংটনের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ২০২৫ সালের শুরু থেকে আমেরিকা আর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় অর্থ দিচ্ছে না, ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য দেশগুলোকে এই বিশাল আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
অন্যান্য কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়া পরিচালিত ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন—যার মধ্যে কিভ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে চারজন, দোনেৎস্কে চারজন এবং দ্নিপ্রোতে দুজন রয়েছেন। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি জানিয়েছেন, কিভের একটি কার্ডিওলোজি ইনস্টিটিউটের অপারেশন থিয়েটার ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে, যেখানে এক রোগী আহত হন। এর আগের দিন খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার এক ড্রোন হামলায় ট্রলিতে থাকা এক শিশু ও ১১ বছর বয়সী এক মেয়েসহ ৬ জন নিহত হন, যাকে জেলেনস্কি ‘জঘন্য বর্বরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।