যুক্তরাজ্যে তরুণদের কাজের সুযোগে মারাত্মক আঞ্চলিক বৈষম্য: আইপিপিআর রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থানে চরম আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে আইপিপিআরের এক প্রতিবেদনে। গবেষণা অনুযায়ী, রদারহ্যামে ১,০০০ জন তরুণের জন্য মাত্র ৪৬টি অনলাইন চাকরির সুযোগ রয়েছে, যেখানে কটসওল্ডে রয়েছে ২৮৮টি।
যুক্তরাজ্যে তরুণদের কাজের সুযোগে মারাত্মক আঞ্চলিক বৈষম্য: আইপিপিআর রিপোর্ট
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

যুক্তরাজ্যে তরুণদের চাকরির বাজারে মারাত্মক আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। সম্প্রতি থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির কিছু অঞ্চলে তরুণদের কাজের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সংস্থাটি ব্রিটেনের বিভিন্ন অঞ্চলে চাকরির সুযোগ নজরদারির জন্য একটি নতুন ‘লোকাল ইউথ অপরচুনিটি ইনডেক্স’ বা স্থানীয় তরুণদের সুযোগ সংক্রান্ত সূচক প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের রদারহ্যাম শহরে প্রতি ১,০০০ জন তরুণদের বিপরীতে অনলাইনে মাত্র ৪৬টি চাকরির বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক ধনী অঞ্চল কটসওল্ড ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল এলাকায় তরুণদের সংখ্যা কম হলেও সুযোগ রয়েছে অনেক বেশি; সেখানে প্রতি ১,০০০ জন তরুণের জন্য রয়েছে ২৮৮টি অনলাইন সুযোগ। এই দুই অঞ্চলের মধ্যে সুযোগের ব্যবধান প্রায় ছয়গুণ।

আইপিপিআরের এই বিশ্লেষণে গভীর আঞ্চলিক বৈষম্যের বিষয়টি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তরুণদের কাজের সুযোগের বিচারে সেরা ১০টি এলাকার মধ্যে ৯টিই ইংল্যান্ডের দক্ষিণে অবস্থিত। দেশজুড়ে তরুণ জনসংখ্যার অনুপাতে চাকরির বিজ্ঞপ্তির জাতীয় গড় ১০৯টি। স্কটল্যান্ডের ইস্ট রেনফ্রিউশায়ার, স্টাফোর্ডশায়ারের নিউক্যাসল-আন্ডার-লাইম এবং নটিংহ্যামশায়ারের ব্রক্সটো-সহ বেশ কিছু এলাকা জাতীয় গড়ের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

এছাড়া শেফিল্ড, কভেন্ট্রি এবং কার্ডিফের মতো প্রধান শহরগুলোও তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগের তালিকায় নিচের দিকে অবস্থান করছে। অন্যদিকে সারির ওকিং, গ্লসটার, অক্সফোর্ডশায়ারের চারওয়েল এবং উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ওয়ারিংটন তরুণদের সুযোগের দিক থেকে তালিকার শীর্ষস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে।

ব্রিটেনে বেকারত্বের হার বাড়ায় তরুণরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে যারা কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে (নিট) নেই, তাদের সংখ্যা এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় আটজন তরুণের মধ্যে একজন এই পরিস্থিতির শিকার। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি এবং কঠিন চাকরির বাজারের কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যে এই হার অনেক দ্রুত বাড়ছে।

আইপিপিআর জানিয়েছে, কোনো তরুণের ‘নিট’ বা কর্মহীন হয়ে পড়ার বিষয়টি কেবল তাদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা কাজ খোঁজার অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না; বরং স্থানীয় সুযোগের অভাবও বড় ভূমিকা রাখে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষানবিস বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ব্যবস্থা সংস্কার এবং সুযোগ কম থাকা এলাকাগুলোতে তরুণদের কাজের অর্থায়নের জন্য একটি নতুন ‘ওয়ার্ক স্টার্ট’ কর্মসূচির প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ইউনিভার্সাল ক্রেডিট সুবিধার আলাদা হার পরিবর্তন করে একটি নতুন ‘ইউথ অ্যালাউন্স’ চালু করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে তরুণদের বেকারত্ব সংকট সমাধানে সাবেক লেবার হেলথ সেক্রেটারি অ্যালান মিলবার্নের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনার প্রতিবেদন আগামী মাসে শরৎকালীন বাজেটের আগে প্রকাশিত হতে পারে। তার আগেই আইপিপিআরের এই গবেষণা রিপোর্ট সামনে এলো। মিলবার্ন শিক্ষা, জনকল্যাণ ও কর্মসংস্থান সহায়তায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাবেক লেবার এডুকেশন সেক্রেটারি ডেভিড ব্ল্যাঙ্কেট বলেন, শৈশবে শেফিল্ডের একটি কাউন্সিল এস্টেটে বেড়ে ওঠা এবং ১৬ বছর বয়সে কোনো যোগ্যতা ছাড়াই স্কুল ছাড়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তরুণদের চ্যালেঞ্জগুলো ভালোভাবেই জানেন। তিনি মন্তব্য করেন, জাতীয় পর্যায়ের লক্ষ্য, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং বিনিয়োগের ইচ্ছা থাকলে কোনো তরুণের ভবিষ্যৎ তার জন্মস্থান দিয়ে নির্ধারিত হবে না এবং সুযোগের দ্বার সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Business
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ