বাংলাদেশে আমদানিকৃত হেলমেটের সাড়ে ২৪ শতাংশ নিরাপত্তা পরীক্ষায় অকৃতকার্য

দেশে বাজারে বিক্রি হওয়া আমদানিকৃত মোটরসাইকেল হেলমেটের একটি বড় অংশই মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হচ্ছে। বিএসটিআইয়ের সাম্প্রতিক ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, গত ৬ মাসে আমদানি করা হেলমেটের প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশই গুণগত মান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
বাংলাদেশে আমদানিকৃত হেলমেটের সাড়ে ২৪ শতাংশ নিরাপত্তা পরীক্ষায় অকৃতকার্য
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

দেশের বাজারে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য বিক্রি হওয়া আমদানিকৃত হেলমেটের একটি বড় অংশই মানসম্মত নয়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। বিএসটিআই গত ৬ মাসে মোট ৪৯টি হেলমেটের নমুনা পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩৭টি হেলমেট গুণগত মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও অকৃতকার্য হয়েছে ১২টি, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ।

বর্তমানে দেশে ৩৩৫টি পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষা বাধ্যবাধকতার তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে দুই ধরনের হেলমেট অন্তর্ভুক্ত—একটি হলো মোটরসাইকেল আরোহীদের টু-হুইলার হেলমেট এবং অন্যটি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত নিরাপত্তা হেলমেট। নির্দিষ্ট কোনো মডেল ও মানের হেলমেট আমদানি করতে হলে বিএসটিআইয়ের ল্যাবে বাধ্যতামূলকভাবে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে মানচিহ্ন ও অনুমোদন নিয়ে বাজারে ছাড়তে হয়।

বিএসটিআইয়ের পদার্থ পরীক্ষণ উইংয়ের পরিচালক মুবিন উল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীদের মান দেখে হেলমেট আমদানি করা উচিত এবং চালকদেরও বিএসটিআই অনুমোদিত হেলমেট কেনা প্রয়োজন। পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রা, অতিবেগুনি রশ্মি, পানির সংস্পর্শসহ নানা পরিবেশে হেলমেটের আঘাত শোষণ ক্ষমতা, স্থায়িত্ব এবং স্ট্র্যাপের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। হেলমেটের আদর্শ ওজন ধরা হয় ১৫০০ গ্রাম বা দেড় কেজি।

রাজধানীর বাংলামোটর ও অন্যান্য এলাকার হেলমেটের দোকানগুলোতে দেখা গেছে, বাজারে আসা বেশির ভাগ হেলমেটই ভারত থেকে আমদানি করা। এ ছাড়া চীন, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার হেলমেটও পাওয়া যায়, যার দাম সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা ও পুলিশের মামলা থেকে বাঁচতে বাজারে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার প্লাস্টিকের তৈরি নিম্নমানের পাতলা হেলমেটও বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ দেশীয় হেলমেট মেলে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায়, আর ভারতীয় ও অন্যান্য আমদানিকৃত হেলমেট ২৫০০ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।

বিক্রেতারা জানান, তারা আমদানিকারকদের কাছ থেকে হেলমেট এনে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করেন। অন্যদিকে ভালকান নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান, তাদের চীন ও ভারত থেকে আনা হেলমেট বিএসটিআইয়ের শর্ত ও অনুমোদন মেনেই বাজারে ছাড়া হয়। তবে বাজারে অনেক হেলমেটেই বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন থাকে না।

বিআরটিএর তথ্য মতে, দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৬৬ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ৪৮ লাখ ৭১ হাজারই মোটরসাইকেল। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭২ জন নিহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমে। সরকারের মোবাইল কোর্ট ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মানহীন হেলমেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য হেলমেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উচিত আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে চালকদের উৎসাহিত করা। সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানহীন হেলমেটের ব্যবহার বন্ধ সম্ভব।

অথেন্টিক সোর্স: প্রথম আলো
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ