আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় আয়োজিত আলোচনা থেকে আপাতত সরে গেছেন ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার ব্যর্থতা বা কোনো জটিলতার কারণে তারা কাতার ত্যাগ করেননি বলে সোমবার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে আরও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, গত রোববার ইরানি প্রতিনিধিরা কাতার ছেড়েছেন। তারা চলে গেলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়নি। তবে যে খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে কথা চলছে, সেটির বিষদ বিবরণ তিনি প্রকাশ করেননি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই আলোচনার মূল ভিত্তি হলো সাত দফার একটি পরিকল্পনা, যা গত সেপ্টেম্বরে তেহরান প্রস্তুত করেছিল। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধের অবসান ঘটানো। ইরান মনে করছে, সমঝোতা চুক্তির আওতায় এই প্রস্তাবটি আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
বাঘাই জানান, ইরানি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন। কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান সহজ করতেই তার এই অবস্থান ছিল। তিনি বলেন, ইরানের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট, যুক্তিসংগত ও যৌক্তিক।
ইরানের মুখপাত্র আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এবং ইরানের বৈধ দাবি ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হলে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো আলোচনা শুরু সম্ভব নয়। এগুলো ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা বা সেখানে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।
এর আগে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদিত হলে নির্ধারিত সাত দিনের জায়গায় মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এর আগে ইরানের প্রাথমিক প্রস্তাবগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের পর সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এমন উদ্বেগের মাঝেই নতুন করে কূটনৈতিক তোড়জোড় শুরু হলো। এই নির্বাচন সম্পর্কে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হলে বাঘাই বলেন, তেহরান আশা করে না যে নির্বাচনের ফলে কোনো নতুন যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হবে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা চালাবে না। তেহরানের সঙ্গে আলোচনাকে ফলপ্রসূ দাবি করলেও ভবিষ্যতে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি একেবারে নাকচ করে দেননি।
সূত্র: সমকাল

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।