যে থানায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন ওসি মাহবুব—নারীর অভিযোগ

যে থানায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন ওসি মাহবুব—নারীর অভিযোগ
যে থানায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন ওসি মাহবুব—নারীর অভিযোগ
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

রাজশাহীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীসহ মাহবুব আলম নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে আন্নি আক্তার অভিযোগ করেছেন, তিনি যে এলাকায় বা থানায় দায়িত্ব পালন করতে যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে উদ্ধার করে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব আলম ২০২৪ সালে রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত ছিলেন।

আন্নি আক্তারের দাবি, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় একাধিক বিয়ে করেছেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ফ্ল্যাটে আটক নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন মাহবুব আলম। তবে তিনি বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মাহবুব দাবি করেছেন, আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি।

আন্নি আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন। সেখানে আরেক নারী থাকার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তিনি সেখানে যান। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা খুলে তাদের বের করেন।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্নি। চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, মাহবুব আলম ও ওই নারীকে নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুবের কোনো ছুটি ছিল না এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই তিনি রাজশাহীতে গেছেন। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ