রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারিদের হামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদী সমাবেশ

লেখক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারিদের হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ। “ব্ল্যাককার মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই” এই দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ সংগঠনের উদ্যোগে এক প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় নাগরিকরা। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে একটি প্রভাবশালী টিকিট কালোবাজারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্র নিয়মিতভাবে রেল টিকিট সংগ্রহ করে বাড়তি দামে বিক্রি করছে, যার ফলে প্রকৃত যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি এই কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে গেলে ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র কয়েকজন সদস্যের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তারা অভিযোগ করেন, এটি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকারকে স্তব্ধ করার একটি প্রচেষ্টা।

সমাবেশে বক্তারা দাবি জানান—
রেলস্টেশন এলাকার টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিরাপদ টিকিট ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

বক্তারা আরও বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন আমাদের জেলার প্রবেশদ্বার, এটি সবার সম্মানের প্রতীক। এখানে কোনো দুর্নীতিবাজ বা কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্য চলবে না।”

প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রেলস্টেশন এলাকা। সমাবেশ শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) বলেন,

“ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্তের কাজ চলছে। রেলস্টেশন এলাকায় টিকিট কালোবাজারি বন্ধে নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও আশ্বাস দেন যে,

“যাত্রীদের হয়রানি রোধ ও টিকিট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রতিবাদী সমাবেশে জেলা শহরের বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা একস্বর কণ্ঠে বলেন— “ব্ল্যাককার নয়, ন্যায্য টিকিট চাই — সাধারণ যাত্রীর অধিকার ফেরাতে হবে।