আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন
পাকিস্তানের শিয়ালকোটে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ও তার পরবর্তী আইনি জটিলতার মধ্যে কেঁদে ফেলে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত টিকটকার মিস্টার পাতলু। শিয়ালকোটের ফারাজ স্টেডিয়াম ডাসকা রোডে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পদপিষ্টের ঘটনায় দুইজনের করুণ মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনার পর টিকটকার পাতলু ও অন্যদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ।
প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় পাতলু দাবি করেন, বিপদের সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁকে একা ফেলে চলে গেছেন। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, পাতলুর বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্টেডিয়ামে একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ৫০টি মোটরসাইকেল এবং একটি গাড়ি পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে শত শত মানুষের বিশাল ভিড় জমে যায়। স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বারে অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে হঠাৎ হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের সৃষ্টি হয়। এতে মোহাম্মদ আকিল ও মোহাম্মদ রায়হান নামে দুই ব্যক্তি প্রাণ হারান এবং অনেকেই আহত হন।
নিজের সাফাই গেয়ে টিকটকার পাতলু বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করা ছিল না, বরং গরিব পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা করা এবং অভাবী মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, অনুষ্ঠানের জন্য যথাযথ অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) নেওয়া হয়েছিল। তাই এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার দায় তাঁর ওপর চাপানো উচিত নয়।
তবে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাতলুর দাবির বিপরীত। স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শর্ত লঙ্ঘন করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান শুরু করার কারণে তারা আগেই ওই এনওসি বাতিল করেছিল। দুর্ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভিডিওতে পাতলু কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করেন, বিপদের আগে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর চারপাশে ঘুরে বেড়াতেন, আইনি ঝামেলায় পড়ার পর তাঁরা সবাই উধাও হয়ে গেছেন এবং কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াননি। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আপাতত তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে হাজির না হওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে ন্যায়বিচারের আকুল আবেদন জানান। পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটির গভীর তদন্ত চালাচ্ছে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।