
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রমনা পার্ক-এ বাংলা নববর্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
র্যাব ডিজি বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় মঈন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেন এবং সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মঈনসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—সুমন, লিটন, মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. স্বপন কাজী ও মো. শাওন হোসেন। জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে মঈন উদ্দিন একদল লোক নিয়ে চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম-এর পরিচালিত হাসপাতালে প্রবেশ করে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, যুবদলের নাম ভাঙিয়ে তিনি হাসপাতালের কর্মকর্তাদের হুমকি দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. কামরুল ইসলাম বিনা পারিশ্রমিকে ২ হাজারের বেশি মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন এবং ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
র্যাব ডিজি আরও বলেন, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ই তাদের রক্ষা করতে পারবে না। হাসপাতালের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মব সৃষ্টি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিম্মি করার চেষ্টা করেছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সিকেডি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই মঈন উদ্দিন বিভিন্নভাবে ডা. কামরুল ইসলামকে হয়রানি করে আসছিলেন। জোরপূর্বক পণ্য সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারও চালানো হয়।
অবশেষে র্যাবের দ্রুত পদক্ষেপে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর হাসপাতাল এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
