সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসিফ ইকবাল খোকন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে দাবি করে প্রচারিত পোস্ট, স্ক্রিনশট ও নানা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: আসিফ ইকবাল খোকন।
এসব প্রচারকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর দাবি করে তিনি বলেন, একটি মহল ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ এবং তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট ও স্ক্রিনশট প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করে আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, ২০০৮ সালে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওই চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে ২০১৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১৮ বছর সরকারি চাকরিজীবনে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পদ-পদবি কিংবা সদস্যপদে তিনি ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি এ ধরনের দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।”
তার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসিফ ইকবাল খোকনের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্ক্রিনশট প্রচার করা হচ্ছে। এসব স্ক্রিনশটের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা স্ক্রিনশটের প্রকৃত উৎস, সময়, প্রেক্ষাপট ও সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তার বিরুদ্ধেও এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁস, জুলাই আন্দোলনকারীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত বিষয় এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে একটি স্মারকলিপি প্রচার করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
আসিফ ইকবাল খোকনের দাবি, ওই স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তদন্তে সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্মারকলিপিতে জনৈক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্থগিতকৃত এমপিও( বেতন) চালু করারও দাবী করা হয় পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জনৈক প্রধান শিক্ষককে দূর্ণীতি ও অর্থ আত্মসাতের দ্বায়ে তাকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
তার বক্তব্য, “যেসব অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তের পর আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয় আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দাবি করে প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, তিনি কোনো অবৈধ বালু মহাল বা বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। বরং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে তিনি অতীতেও প্রতিবাদ করেছেন, বর্তমানে করছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ করবেন।
নিজের বাবা ও চাচাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানান আসিফ ইকবাল খোকন।
তিনি জানান, তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সাহের উদ্দিন এবং চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো’ আবদুল হাকিমকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যাচাই-বাছাই ও স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে এসেছে। তার দাবি, পরবর্তী সময়ে তারা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) আপিল করেন এবং শুনানি ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তার বক্তব্য, “সরকারি প্রক্রিয়ায় যাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি রয়েছে, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও সিদ্ধান্ত যাচাই করা উচিত।”
সাংবাদিকতার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, অরুয়াইল থেকে সরকারি ডিক্লেয়ারেশন প্রাপ্ত পাক্ষিক আলোর সারথি পত্রিকা প্রকাশিত হয় এটির সম্পাদক তার আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুল হাকিম এবং প্রকাশক তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সাহের উদ্দিন ওই পত্রিকার প্রকাশনা বা সম্পাদনার/ সাংবাদিকতার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই তা অভিযোগের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত তার ফেইসবুক আইডিতে একটি ঘোষণা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আসিফ ইকবাল খোকন আরও দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার এসব সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, Daily Sun, The Asian Age, The Daily Star, Jago News24, The Bangladesh Today, RisingBDসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে তার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কেউ চাইলে ‘Asif Iqbal Khokon’ লিখে গুগলে অনুসন্ধান করলে এসব প্রতিবেদনের তথ্য ও লিংক খুঁজে দেখতে পারবেন।”
সবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, “কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত। মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একজন মানুষের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কারও কাম্য হতে পারে না।”
তিনি তার বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ তদন্তেরও দাবি জানান।
আসিফ ইকবাল খোকনের দাবি, “আমি সত্যের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার আমাকে আমার নীতি ও অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না।” ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।