
কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ও ভুয়া অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে ডজনখানেককে অবিলম্বে ছাড়া হোক।
সিজেএ উল্লেখ করেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা স্বাগত যোগ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ১৬ হাজার ৪২৯টি ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। কিন্তু এখনও অনেক সাংবাদিক অন্যায়ভাবে আটক রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সিজেএ সহ-সভাপতি শ্যামল দত্ত, ভোরের কাগজের দীর্ঘদিনের সম্পাদক। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে ভিত্তিহীন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। শ্যামলসহ অনেক সাংবাদিককে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রতিনিধিত্ব ও জামিন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সিজেএ আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শত শত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন, কেউ কেউ নিহতও হয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অনেককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং প্রেস কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সিজেএ দাবী করেছে, এসব অবিচারের প্রতিকার করা জরুরি।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সামোয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৫৬টি কমনওয়েলথ সরকারের প্রধান গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সিজেএ নতুন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া, গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়মুক্তির অবসান ঘটানো এবং ভবিষ্যতে তারা আইনের পূর্ণ সুরক্ষায় কাজ করতে পারা নিশ্চিত করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে।
জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি আইরিন খান-কে উদ্ধৃত করে সিজেএ বলেছে, গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মামলাগুলো বাংলাদেশি আদালত কীভাবে পরিচালনা করে তা হবে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবতার একটি পরীক্ষা।
