
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদ সরকারের আমলের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান উৎপাদনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটি বর্তমানে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কেন্দ্রটি তদন্ত করছে।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তদন্তে দেখা গেছে—সিরিয়ার এই পারমাণবিক চুল্লিটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এমন উপাদান উৎপাদনে সক্ষম ছিল, যা সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেত।
এর আগে এক গোপন প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, গত আগস্ট মাসে আইএইএ-র একটি পরিদর্শক দল সিরিয়ার বেশ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে। দেইর আজ জুর অঞ্চলের ওই স্থানে যে শীতলীকরণ অবকাঠামো উন্মোচিত হয়েছে, তা একটি পারমাণবিক চুল্লির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আইএইএ প্রধান গ্রোসি বলেন, আগস্টে পরিদর্শনের সময় গোপন করা পারমাণবিক সামগ্রীর কাছে পৌঁছাতে পরিদর্শকদের দেয়াল ভেঙে অত্যন্ত সরু ও কঠিন পথ পার হতে হয়েছে। সে সময় ওই কেন্দ্রের আশপাশে বিভিন্ন বাক্সে পরমাণু উপাদান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
তবে গ্রোসি নিশ্চিত করেছেন যে, ওই পারমাণবিক উপাদানগুলো এখন আইএইএ-র পূর্ণ নজরদারি ও সুরক্ষার অধীনে রয়েছে। সংস্থাটির পরিদর্শকরা ইতিমধ্যে সেখানে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানটিতে খননকাজ অব্যাহত থাকায় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে আইএইএ।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অধীনে সিরিয়া একটি অপ্রকাশিত পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো। সেখানে উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় দেইর আজ জুরে এই চুল্লিটি তৈরি করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কেন্দ্রটি ধ্বংস হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
হামলার পর সিরিয়ার সাবেক কর্তৃপক্ষ স্থানটি সমান করে দেয় এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ কোনো জবাব দেয়নি। আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর জাতিসংঘ সংস্থাকে তদন্তে সহযোগিতা করছে।
আইএইএ আরও জানিয়েছে, আসাদ সরকার পারমাণবিক উপাদান ও স্থাপনার তথ্য গোপন করেছিল। দেইর আজ জুরের পারমাণবিক চুল্লি ছাড়াও জ্বালানি তৈরির কারখানা এবং ইউরেনিয়াম বর্জ্য সংরক্ষণের একটি স্থান ছিল। গত জুলাই মাসে সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন আরেকটি অপ্রকাশিত স্থানের কথা জানায় এবং তদন্তের আমন্ত্রণ জানায়।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে বিবেচনা করা হলেও তারা নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচির কথা কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।
সূত্র: Al Jazeera – All News
