ব্যবহারকারীদের এইচআইভি তথ্য শেয়ারের অভিযোগে ২ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড জরিমানা বা ক্ষতিপূরণে সম্মত গ্রাইন্ডার

লেখক:
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

ব্যবহারকারীদের এইচআইভি স্থিতি সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের সাথে শেয়ার করার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা নিষ্পত্তিতে ২ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড দিতে সম্মত হয়েছে এলজিবিটিকিউ+ ডেটিং অ্যাপ গ্রাইন্ডার। ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলাটি পরিচালিত হয়, যেখানে ১১ হাজারের বেশি দাবিদার যুক্ত হয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে জানা গেছে, গ্রাইন্ডার দুটি কিস্তিতে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড করে মোট ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করবে। তবে এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের দায় স্বীকার করেনি। তারা জানিয়েছে, এই অভিযোগগুলো ২০২০ সালের আগের সময়কালের ঘটনা, যখন অ্যাপটি চীনা প্রতিষ্ঠান ‘কুনলুন’-এর মালিকানাধীন ছিল।

নথি অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম কিস্তির ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড এবং ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বাকি ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও ২০২০ সালের আগের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের যেসব ব্যবহারকারী উদ্বেগ ও আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন, তা তারা অনুধাবন করে।

আইন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অস্টেন হায়েস’ দুই বছর আগে যুক্তরাজ্যে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের অভিযোগে বলা হয়, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গ্রাইন্ডার ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল তথ্য তৃতীয় পক্ষের সাথে শেয়ার করেছে, যা যুক্তরাজ্যের গোপনীয়তা আইনের লঙ্ঘন। এসব তথ্যের মধ্যে ব্যবহারকারীদের জাতিগত পরিচয় এবং যৌন দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গ্রাইন্ডার অ্যাপে ব্যবহারকারীরা তাদের এইচআইভি স্থিতি এবং সর্বশেষ পরীক্ষার তারিখ শেয়ার করার সুযোগ পান। অ্যাপ কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, সামাজিক কুসংস্কার কমানো এবং ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তার জন্য এই ফিচার রাখা হয়েছে। তবে দাবিদারদের আইনজীবী ছায়া হনুমানজি জানান, অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হওয়ায় ব্যবহারকারীরা চরম মানসিক কষ্টে ভুগেছেন।

এই ঘটনায় ‘অ্যাপটিমাইজ’ এবং ‘লোকালিটিক্স’ নামে দুটি ডাটা অ্যানালিটিক্স সংস্থাকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যাদের কাছে এই সংবেদনশীল তথ্য পৌঁছেছিল। ২০১৮ সালে প্রথম প্রকাশ পায় যে গ্রাইন্ডার ব্যবহারকারীদের এইচআইভি সম্পর্কিত তথ্য ওই সংস্থাগুলোর সাথে শেয়ার করছে। তখন গ্রাইন্ডার দাবি করেছিল এটি শিল্পের প্রচলিত নিয়মের অনুসারী, তবে পরবর্তীতে এইচআইভি সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ডাটা সুরক্ষার অনিয়মের কারণে এর আগে নরওয়ের ডাটা প্রটেকশন ওয়াচডগ গ্রাইন্ডারকে ৫৫ লাখ পাউন্ড জরিমানা করেছিল এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনারের কার্যালয় থেকেও তাদের সতর্ক করা হয়। ২০২০ সালের পর নতুন মালিকানায় আসার পর গ্রাইন্ডার তাদের গোপনীয়তা নীতি পরিবর্তন করেছে বলে নথিতে উল্লেখ করেছে।

সূত্র: BBC News – World

  • এইচআইভি তথ্য
  • গ্রাইন্ডার
  • তথ্য গোপনীয়তা
  • প্রযুক্তি
  • মামলা নিষ্পত্তি