স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে ‘আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন’। এই দাবি আদায় না হলে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি দেশব্যাপী কঠোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সংগঠনটির সদস্য সচিব আল আমিন আটিয়া। এসময় সংগঠনটির সদস্য হাসিম ইব্রাহিম, রয়েল খান ও ওমর ফারুকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে আল আমিন আটিয়া বলেন, ইসি ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ও বিধিবিধান ঘোষণা করলেও প্রবাসীরা এই ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের কোটি কোটি প্রবাসীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কমিশন এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকারের কথা স্পষ্ট বলা রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কেবল বিদেশে অবস্থান করার কারণে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, যা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। নাগরিকের এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ইসির বক্তব্যকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ইসি থেকে বলা হচ্ছে প্রবাসীদের জন্য স্থানীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা ব্যয়বহুল ও অযৌক্তিক। কিন্তু রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য পাঁচ বছর পর একটি ভোটের আয়োজন করতে না পারা রাষ্ট্র ও সরকারের স্পষ্ট ব্যর্থতা। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টাল ভোট ও ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ সম্ভব বলে মনে করে সংগঠনটি।
আল আমিন আটিয়া জানান, স্মারকলিপি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আন্দোলনের প্রাথমিক সূচনা হলো। অবিলম্বে প্রবাসী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন এবং রাজপথে আন্দোলনের ডাক দেবেন।
তিনি পরিষ্কার করেন, প্রবাসীরা দেশে ফিরলে ভোট দিতে পারবেন আর বিদেশে থাকলে পারবেন না—এমন দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের দাবি জানায় ‘আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন’।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।