হাদি হত্যাকাণ্ড: দুই সহযোগী ভারতে গ্রেফতার, মূল আসামিরা পালিয়ে গেছে—ডিএমপি

হাদি হত্যাকাণ্ড: দুই সহযোগী ভারতে গ্রেফতার, মূল আসামিরা পালিয়ে গেছে—ডিএমপি
হাদি হত্যাকাণ্ড: দুই সহযোগী ভারতে গ্রেফতার, মূল আসামিরা পালিয়ে গেছে—ডিএমপি
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সহায়তাকারী দুইজনকে ভারতের মেঘালয় পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএমপি স্বীকার করেছে যে, হাদির হত্যাকারীরা ঘটনার পরপরই ভারতে পালিয়ে যায়।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের দিনই হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ ওরফে রাহুল এবং মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখকে শনাক্ত করা হয়। তাদের গ্রেফতারে তাৎক্ষণিকভাবে সাভার, হেমায়েতপুর, আগারগাঁও ও নরসিংদীতে একাধিক অভিযান চালানো হয়। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএমপির একটি দল ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে। তবে এর আগেই আসামিরা সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

নজরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং গ্রেফতারদের জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার পর ফয়সাল ও আলমগীর প্রথমে সিএনজিযোগে আমিনবাজারে যান। সেখান থেকে মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেটকারে করে তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছায়। হালুয়াঘাটের আগে মুন ফিলিং স্টেশনে ফিলিপ ও সঞ্জয় নামের দুই ব্যক্তি তাদের গ্রহণ করে। সীমান্ত পার হওয়ার পর তারা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পুত্তির কাছে হস্তান্তর হয়। পরবর্তীতে পুত্তি তাদের ট্যাক্সিচালক সামীর মাধ্যমে মেঘালয়ের তুরা এলাকায় নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেঘালয় পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে, পুত্তি ও সামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসামিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে।

এ পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়ে ডিএমপি জানায়, জব্দ আলামতের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন, ছোরা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বরপ্লেট, হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক। গ্রেফতারদের মধ্যে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, মূল আসামিকে গ্রেফতার করা গেলে প্রকৃত নেপথ্য আরও স্পষ্ট হতো। তদন্তে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর হাদি খুবই স্পষ্টভাষী ও আদর্শনিষ্ঠ অবস্থানে ছিলেন, যার ফলে ওই সময়ের ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পক্ষ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ রাজনৈতিক হতে পারে। কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হয়নি।

আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ডিএমপি জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—দুই পথেই আসামিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ