যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে হঠাৎ করেই আশুগঞ্জসহ দেশের একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে সারা দেশে আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এবং দেশের আরএনপিএলের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কেন্দ্রটি একদিন আগেও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (এলএনডিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত থেকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে অথবা সীমিত সক্ষমতায় চলছে।
বিদ্যুতের এই ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পড়তে শুরু করেছে। শহরাঞ্চলে দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটছে, আর গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আশুগঞ্জসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করা না গেলে সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ চলছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।