মোঃ আল আমিন মল্লিক : দীর্ঘদিন ধরে ক্রাচ, লাঠি কিংবা বাঁশের সাহায্যে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিলেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পা হারানো ১২ জন অসহায় ও দরিদ্র মানুষ। অবশেষে তাদের জীবনে ফিরতে শুরু করেছে নতুন আশার আলো। কৃত্রিম পা সংযোজনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে ইজি লাইফ ফর বাংলাদেশ।
সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতায় এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সহায়তা সংগঠন ইনসানিয়া রিলিফ, শিকাগো, USA এবং সার্বিক সহযোগিতায় যাকাত ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছে ইজি লাইফ ফর বাংলা দেশ । গত ১২/০৯/২০২৬ তারিখ এই কার্যক্রম শুরু হয়। গত দশদিন যাবত কৃত্রিম পা তৈরি করে রোগীদের প্রশিক্ষণ করানোর পরে আজ বুধবার ২৩/০৯ / ২০২৬ সকাল ১০টায় ঢাকার মোহাম্মদ পুর বাবর রোডে অবস্থিত কৃত্রিম পা, হাত ও ব্রেইস সংযোজন কেন্দ্র ইজি লাইফ ফর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ জনের কৃত্রিম পা সংযোজন কার্যক্রম শেষ করা হয় ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইজি লাইফ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোসাঃ বিউটি বেগম, পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাগণ। মোসম্মাৎ বিউটি বেগম বলেন সমাজের পিছিয়ে পরা মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করাই আমাদের মুল লক্ষ্য। সমাজের বিত্তবানদের এই মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানান। পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ইনসানিয়া রিলফ সিকাগো USA সংগঠনের সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে আমরা তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই মহৎ কাজ করা সহজ ছিল না। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য অনুরোধ করছি এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।
কৃত্রিম পা সংযোজন প্রসঙ্গে যাকাত ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ শেখ মাহমুদ আলম বলেন, “আমরা প্রায়ই আমাদের চারপাশে পা হারানো ও অসহায় মানুষদের দেখতে পাই। এসব মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও স্বাভাবিক করতে আমাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসা উচিত।”
তিনি আরো বলেন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাদের চলাচলে গতি সঞ্চার এবং জীবনযাপন আরও সহজ ও সুন্দর করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা, অর্থসহ বিভিন্নভাবে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
কৃত্রিম পা সংযোজনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কষ্ট ও চলাচলের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ১২ জন অসহায় মানুষ নতুনভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। তাদের মুখে ফুটে ওঠা হাসি ও নতুন করে পথচলার স্বপ্নই যেন এই মানবিক উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।