বিনোদন ডেস্ক: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারে ১৮৯২ সালের আগস্টে ঘটে যাওয়া এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১৩৪ বছর পরও অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। সেই রহস্যময় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে অ্যানথোলজি সিরিজ ‘মনস্টার: দ্য লিজি বোর্ডেন স্টোরি’। ১৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটির মধ্য দিয়ে পুরোনো সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনা এবং তাকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
১৮৯২ সালের ৪ আগস্ট বোর্ডেন পরিবারের প্রধান অ্যান্ড্রু বোর্ডেন এবং তাঁর স্ত্রী অ্যাবি বোর্ডেন নিজ বাড়িতেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হন। ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা অ্যান্ড্রুর মেয়ে লিজি বোর্ডেন এবং গৃহকর্মী ব্রিজেট ‘ম্যাগি’ সুলিভানের ওপর তদন্তকারীদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে লিজি গ্রেপ্তার হন এবং ১৮৯৩ সালে তাঁর বিচার শুরু হয়। তবে আদালতের প্রসিকিউশন মূলত পরিস্থিতিগত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে মামলা পরিচালনা করায় এবং কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় ১৮৯৩ সালের ২০ জুন জুরি বোর্ড লিজিকে খালাস দেয়।
আইনি প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেও জনমনে লিজিকে ঘিরে নানা সন্দেহ থেকে যায়। হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁর বিষাক্ত প্রুশিক অ্যাসিড সংগ্রহের চেষ্টা এবং তদন্তকালে দেওয়া অসংলগ্ন বক্তব্য এই সন্দেহকে উসকে দিয়েছিল। এছাড়া লিজিকে নিয়ে লোকমুখে একটি বিখ্যাত ছড়া প্রচলিত হয়, যেখানে বলা হয় তিনি কুঠার দিয়ে সৎমাকে ৪০ বার এবং বাবাকে ৪১ বার আঘাত করেছিলেন। তবে ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, অ্যাবি বোর্ডেনকে ১৯ বার এবং অ্যান্ড্রু বোর্ডেনকে ১১ বার আঘাত করা হয়েছিল।
রায়ান মারফি ও ইয়ান ব্রেনানের পরিচালনায় নির্মিত নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ‘মনস্টার’ সিরিজের এটি চতুর্থ কিস্তি। এই প্রথমবার সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে একজন নারী স্থান পেয়েছেন। এতে লিজি বোর্ডেনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এলা বিটি। অন্যান্য চরিত্রে আছেন চার্লি হানাম, রেবেকা হল, ভিকি ক্রিপস, বিলি লর্ড, জেসিকা বার্ডেন ও সারা পলসন। চার্লি হানাম লিজির বাবা অ্যান্ড্রু বোর্ডেন এবং রেবেকা হল সৎমা অ্যাবি বোর্ডেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
নেটফ্লিক্সের নতুন এই সিরিজে ইতিহাস এবং কল্পনার এক মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। সিরিজে লিজি ও গৃহকর্মী ব্রিজেট সুলিভানের মধ্যে একটি প্রেমের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে, যার কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ বাস্তব ইতিহাসে নেই। নির্মাতা ম্যাক্স উইঙ্কলার জানান, নিছক ইতিহাসভিত্তিক নাটকের বাইরে গিয়ে সে সময়ের সামাজিক বিধিনিষেধ, নারীদের দমিত ক্ষোভ এবং মনস্তাত্ত্বিক নানা দিক ফুটিয়ে তুলতেই এই কাল্পনিক অংশ যোগ করা হয়েছে।
লিজির প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদ এবং গবেষকদের মধ্যে আজও মতভেদ রয়েছে। শতাব্দী ধরে বই, চলচ্চিত্র ও নাটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই ঘটনাটি বারবার নানাভাবে চিত্রিত হয়েছে। ‘মনস্টার: দ্য লিজি বোর্ডেন স্টোরি’ সেই ধারারই একটি নতুন সংযোজন, যা দর্শককে ইতিহাসের সত্যতার পাশাপাশি নাটকীয় এক ব্যাখ্যার মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।