নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদের জোরালো ঘোষণা, হুমকি-ধমকি ও অভিযানের মাত্র ৩৭ দিনের মাথায় আবারও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু করেছেন হকাররা। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত এখন প্রায় পুরোপুরি হকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং প্রশাসনের নানা উদ্যোগ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গত ১৩ এপ্রিল জোরালো প্রচারণার মাধ্যমে নগরজুড়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সিটি করপোরেশন। এ সময় সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম-এর ছেলে আবুল কাউসার আশা।
তবে উচ্ছেদের পরও সন্ধ্যা নামলেই হকাররা ফুটপাতে বসতে শুরু করেন। পরে তা ধীরে ধীরে দিনের বেলাতেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে চাষাঢ়া, বিবি রোড, নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক, শায়েস্তাখান সড়ক ও চেম্বার রোডসহ নগরের অধিকাংশ ফুটপাত ফের হকারদের দখলে চলে গেছে।
সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত হকারদের হামলায় সিটি করপোরেশনের কয়েকজন উচ্ছেদকর্মী মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় ১৩৭ জন হকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের নাগরিক আন্দোলনের নেতা রফিউর রাব্বি বলেন, “বাস্তবতা হলো ফুটপাত পুরোপুরি হকারমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। তবে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।”
অন্যদিকে আবুল কাউসার আশা বলেন, হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তার দাবি, পুনর্বাসনের বিষয়ে সিটি করপোরেশন ধীরগতিতে কাজ করায় হকাররা আবার ফুটপাতে ফিরে এসেছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।”

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।