
শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সর্বহারা বিপ্লব বার্ষিকী ও বাসদ(মার্কসবাদী)’র ৪৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সমাবেশ ১ নং রেলগেটে বাসদ (মার্কসবাদী) চত্বরে ও জেলা শহরে লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।বাসদ(মার্কসবাদী) গাইবান্ধা জেলার আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল হাবীব সাঈদের সভাপতিত্বে উক্ত সমাবেশে বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন,কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য কমরেড নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, সদরের আহবায়ক কমরেড গোলাম ছাদেক লেবু,পলাশবাড়ী উপজেলার আহবায়ক কমরেড কাজী আবু রাহেন শফিউল্লা খোকন,সুন্দর গন্জ উপজেলার আহবায়ক পরমানন্দ দাস, সাঘাটা উপজেলার আহবায়ক ডাঃ মশিউর রহমান, ফুলছড়ি পজেলারএছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা,ফুলছড়ি উপজেলার আহবায়ক মাহবুবুর রহমান সিজু, গোবিন্দগন্জ উপজেলার প্রতিনিধি, রাহেলা সিদ্দিকাসহ প্রমুখ।নেতৃবৃন্দ বলেন,ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব সংগ্রাম ও জীবনদানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছে। এতবড় ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলে আন্দোলনের মধ্য থেকেই দাবি উঠেছে সমাজের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার। ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি সংগ্রামের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো-এখানে শোষণমুক্তির স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা জীবন দিয়ে একেকটা স্বৈরশাসকের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু তারপরে যারা ক্ষমতায় বসেছে তাদের কেউই জনগণের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা -স্বপ্ন পূরণে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।তারা পাহারা দিয়েছে বড়লোকের সম্পদ,সুযোগ করে দিয়েছে ধনিক শ্রেণিকে লুটপাটের। এভাবে গত ৫৪ বছরে ধনী-গরীবের বৈষম্য হয়েছে আকাশ-পাতাল।২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১ বছরের অধিক সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণকে ধীরে ধীরে হতাশ করে তুলছে।শেষ পর্যন্ত এ সরকারও মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। জনগনের সংকট সমস্যা সমাধান করতে হলে শিক্ষা নিতে হবে মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কাছ থেকে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন,১০৮বছর আগে পৃথীবীর বুকে সর্বহারা শ্রেণী মার্কসবাদ- লেনিনবাদের শিক্ষায় বিপ্লবেরমাধ্যমে যে নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিল তার তুলনা নেই । ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর বিপ্লবের তাৎপর্য কেবলমাত্র রাশিয়ার মাটিতে সীমাবদ্ধ ছিলো না,দুনিয়ার দেশে দেশে শ্রমজীবি মানুষের কাছে এনেছিলো মানবমুক্তির এক নতুন বার্তা। শ্রমিক শ্রেনীর যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নে সেই সমাজতান্ত্রিক দেশ মানুষ কে সকল ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছিলো।সেখানে ছিলো না কোন ভিক্ষুক,বেকার,পতিতা।সবার জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা ছিলো বিনামূল্যে। নারীরা পেয়েছিলো প্রকৃত মর্যাদা ও স্বাধীনতা।মহান লেনিনের নেতৃত্বে নভেম্বর বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এমন এক সমাজ যেখানেদারিদ্র ও ক্ষুধা নেই। নেই বেকারত্ব ও অশিক্ষা, নেই ভিক্ষা ও পতিতাবৃত্তি । সাম্রাজ্যবাদীদের যুদ্ধ চক্রান্তের বিপরীতে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিলোএই সমাজতন্ত্র। এর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিলো যুদ্ধবিরোধী শান্তিশিবির । এককভাবে সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের এই অভূতপূর্ব সাফল্য ও অগ্রগতির পরও তার পতন ঘটে । কিন্ত তা স্বত্বেও এর শিক্ষা মার্কর্সবাদ লেনিনবাদের সেই দৃঢ় ও উন্নত উপলব্ধি কমরেডশিবদাস ঘোষের চিন্তাধারাকে প্রয়োগ করে ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের মাটিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যাত্রা শুরু করে। আমাদের মহান পার্টি বাসদ (মার্কসবাদী)’র এই সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে দেশের সকল শ্রমজীবী মেহনতী মানুষ ও গণতন্ত্রমনা মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।সেই সাথে স্থানীয় সংকট নিরসনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার দাবী জানান।
