শবেব রাত: মুক্তির রাত ও বিশেষ ফজিলতের রাত

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৬ মাস আগে
শবেবরাত: মুক্তির রাত ও বিশেষ ফজিলতের রাত

শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত বলা হয়, যা ইসলামী ক্যালেন্ডারে মুক্তির রাত হিসেবে পরিচিত। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুল বরাত’ অর্থ রাতের মুক্তি। হাদিস শরিফে এ রাতকে শাবান মাসের অর্ধ রজনি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

শবেবরাতের বিশেষ নামগুলো হলো: ১. আল লাইলাতুল মুবারাকাহ (বরকতময় রাত) ২. লাইলাতুল বরাত (মুক্তির রাত) ৩. লাইলাতুল রাহমাত (দয়া প্রাপ্তির রাত) ৪. লাইলাতুস সাক (রিজিক বণ্টনের রাত)

হজরত রসুল (সা.) শবেবরাতের রাত জাগ্রত থেকে ইবাদত ও ১৪ রাকাত নামাজ আদায় করতেন। এ রাতে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে এসে বান্দাদের আহ্বান জানান – যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদেরকে ক্ষমা করবেন, যারা রিজিক চাইবে তাদেরকে রিজিক প্রদান করবেন এবং অসুস্থদের সুস্থ করবেন।

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, শবেবরাতে কারা জন্ম নেবে, কার মৃত্যু হবে, কার রিজিক বিতরণ হবে—all বিষয় আল্লাহর কাছে লিপিবদ্ধ হয়। এ রাতের ইবাদত ও দোয়া মানুষের হিকমতপূর্ণ বিষয় নির্ধারণের সাথে যুক্ত।

শবেবরাতের রাতে ক্ষমা পাওয়া যায়, তবে হিংসুক ও হত্যাকারীদের জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রযোজ্য নয়। তাই রজনির রাত জাগ্রত থেকে ইবাদত বন্দেগি ও দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শবেবরাতের ইবাদত ও স্মরণীয় ফজিলত অনুসরণ করে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রিজিক ও কল্যাণ প্রার্থনা করেন, যা আত্মা ও জীবনের জন্য বিশেষ বরকত হিসেবে গণ্য হয়।