
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র এবং তার বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করার পর প্রথমে ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর বিভাগের এক নারী শিক্ষকের বরাত দিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে ছাত্রীর পূর্বে সম্পর্ক ছিল, যা পরে ভেঙে যায়। মঙ্গলবার ওই প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীর হলের সামনে গিয়ে বিভিন্ন অগ্রহণযোগ্য আচরণ করেন এবং কথা বলার জন্য তাকে বাসায় যেতে চাপ দেন। রাজি না হলে ব্ল্যাকমেল করা হয় বলে অভিযোগ। পরে বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রী তার বাসায় গেলে সেখানে তার মুখ টেপ দিয়ে বন্ধ করে মারধর করা হয় এবং হাতে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে অভিযুক্ত চলে যান। সেখান থেকেই ৯৯৯–এ কল করে সাহায্য চান ভুক্তভোগী।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজ আকন জানান, ছাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মারধর ও ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, ছাত্রীর হাতে ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার অংশে পোড়া জখম রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না থাকায় তাকে রেফার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে। পুলিশ বিষয়টি জানালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা শাখার সদস্যদের পাঠায়। ভুক্তভোগী ছাত্রী বুধবার প্রশাসনকে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
