ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: উল্লাপাড়ায় চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু, এলাকায় উত্তেজনা
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ইভটিজিং বা উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় শাহ আলম (৩৫) নামে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রশিদপুর ও কাশিনাথপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহ আলম রশিদপুর গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাদের সূত্রপাত মূলত পার্শ্ববর্তী কাশিনাথপুর গ্রামের কতিপয় যুবকের উশৃঙ্খল আচরণকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, কাশিনাথপুর গ্রামের ওই যুবকেরা দীর্ঘ দিন ধরে রশিদপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এসে আড্ডা দিতেন এবং যাতায়াতের পথে স্থানীয় স্কুল-কলেজপড়ুয়া মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হলে রশিদপুর গ্রামের বাসিন্দারা ওই যুবকদের একাধিকবার সতর্ক করেন এবং এলাকায় আড্ডা দিতে নিষেধ করেন। এই নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে রশিদপুর গ্রামের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চালানো এই হামলায় রশিদপুর উত্তরপাড়ার বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে শাহ আলমের আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর, যার ফলে দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শাহ আলমের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেনি। রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইভটিজিংয়ের মতো একটি সামাজিক ব্যাধির প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন মানুষের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
