যমুনার ভাঙন ও আকস্মিক বন্যায় প্রতিবছরই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জামালপুরের বিস্তীর্ণ জনপদ। ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম, মেলান্দহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, রেলস্টেশন ও পৌর শহরের অন্তত ১০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়। এতে সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-এর অর্থায়নে সীমান্তবর্তী ইসলামপুর উপজেলার শশারিয়াবাড়ি থেকে চিনাডুলী ইউনিয়নের সিংভাঙ্গা পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও গিলাবাড়ি থেকে উলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ বাদ পড়ে গেছে। ফলে ওই অংশ দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
উলিয়া এলাকার বাসিন্দা ওয়ারেছ আলী বলেন, যমুনা নদীর মুখে লাগাম দিতে এই ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা গেলে তিন উপজেলার অন্তত ৬০টি গ্রাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষকের তিন ফসল নিরাপদে ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ও ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে গিলাবাড়ি-উলিয়া অংশ এবং বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর সীমানা পর্যন্ত এলাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নদীভাঙন অনেকাংশে রোধ করা গেলেও যমুনার নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় হঠাৎ নদী ফুলে ওঠে। এতে বিচ্ছিন্ন ভাঙন ও তীব্র বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি অংশে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে যমুনা পাড়ের মানুষের।

যমুনার ভাঙন ও বন্যায় বিপর্যস্ত ৬০ গ্রাম, অসম্পূর্ণ বাঁধে বাড়ছে শঙ্কা






